প্রেরি ল্যান্ড ডিটেনশন সেন্টারে সহিংস বিক্ষোভে সাতজনের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাস সংলগ্ন প্রেইরিল্যান্ড ডিটেনশন সেন্টারের বাইরে গত বছরের ৪ জুলাই আয়োজিত বিক্ষোভের ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে আরও সাতজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ফোর্ট ওয়ার্থের একটি ফেডারেল আদালত। অভিবাসনবিরোধী নীতির প্রতিবাদে আয়োজিত ওই বিক্ষোভের সময় পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই বিক্ষোভের পেছনে বামপন্থী আন্দোলন ‘অ্যান্টিফা’র সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
বুধবার ঘোষিত রায়ে সাতজনের মধ্যে ছয়জন ‘সন্ত্রাসবাদে বস্তুগত সহায়তার’ অভিযোগ স্বীকার করে নেওয়ায় তাদের প্রায় ২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় ইনেস সোটো নামের অপর এক ব্যক্তিকে ৫০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের সহায়তা, দাঙ্গা সৃষ্টি এবং বিস্ফোরক দ্রব্য রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
গত বছরের সেই বিক্ষোভের সময় সাবেক মার্কিন মেরিন রিজার্ভিস্ট বেঞ্জামিন সং একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। অভিযোগ রয়েছে, গুলি চালানোর আগে তিনি রাইফেল বের করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। মার্কিন বিচার বিভাগের ভাষ্যমতে, বিক্ষোভকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র, ফার্স্ট এইড কিট এবং বডি আর্মার নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন, যা তাদের সুপরিকল্পিত অশুভ উদ্দেশ্যকে নির্দেশ করে।
ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং ফেডারেল স্থাপনায় হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আপসহীন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ‘অ্যান্টিফা’কে ‘অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা করার পর এই প্রথম সংগঠনটির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বড় ধরনের দণ্ড প্রদানের ঘটনা ঘটল। এর আগে ২৩ জুন একই মামলায় আরও আটজনকে সম্মিলিতভাবে ৪৫০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের যুক্তি, বিক্ষোভকারীরা কোনো অ্যাম্বুশ বা পরিকল্পিত হামলার প্রস্তুতি নেননি। আগ্নেয়াস্ত্র বহন ছিল মূলত আত্মরক্ষার জন্য, যা মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর আওতায় বৈধ। আইনজীবীদের মতে, পটকাবাজি বা আতশবাজি ছিল কেবল ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকা অভিবাসীদের প্রতি সংহতি প্রকাশের একটি মাধ্যম।
এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবাদের সংজ্ঞাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক অধিকার কর্মীরা। তাদের মতে, এটি মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত বাকস্বাধীনতার সীমানাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এদিকে দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে বেঞ্জামিন সং ও ড্যানিয়েল রোলান্ডো সানচেজ এস্ট্রাডাসহ কয়েকজন এরই মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
সংশ্লিষ্ট বিচারক রিড ও’কনর রায়ে মন্তব্য করেছেন যে, প্রেইরিল্যান্ডের ঘটনা কোনো সাধারণ প্রতিবাদ ছিল না, বরং তা ছিল গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। বিচারক আরও যোগ করেন যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দমনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য। তবে পুরো বিষয়টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সীমানা ও নাগরিক অধিকারের এক জটিল পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা