শুল্ক বাবদ ২০ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ ট্রাম্প প্রশাসনের, আরও ৬৫ বিলিয়ন ডলার বকেয়া

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক যুগান্তকারী রায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্ক নীতি বাতিল হওয়ার পর দেশটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ৮৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত পেতে যাচ্ছে। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আমদানিকারকদের কোষাগারে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ২০ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ৬৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেওয়া রায়ে আদালত জানায়, ব্যাপকভিত্তিক ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের কোনো নীতির বিরুদ্ধে এটিই ছিল সর্বোচ্চ আদালতের প্রথম সরাসরি হস্তক্ষপ। এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও উচ্চমূল্যের চাপে থাকা মার্কিন ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। যদিও শুল্ক ফেরতের বিষয়টি আদেশে স্পষ্ট ছিল না, তবুও ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশন ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের মতো প্রভাবশালী বাণিজ্যিক গোষ্ঠীগুলো মোট ১৩৩ বিলিয়ন ডলার আদায়ের লক্ষ্যে আইনি তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

শুল্ক আরোপের প্রভাবে গত এক বছর ধরে কেন্টাকির হুইস্কি প্রস্তুতকারক থেকে শুরু করে ওয়ালমার্টের মতো বৃহৎ কর্পোরেশনগুলো তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছিল। এর জেরে জিম বিম তাদের ডিস্টিলারি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল এবং ওয়ালমার্ট নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়। বর্তমানে ওয়ালমার্ট জানিয়েছে, শুল্ক ফেরত পাওয়া অর্থ তারা গ্রাহকদের পণ্যের দাম কমিয়ে দেওয়ার কাজে ব্যবহার করবে, যাতে নিম্ন আয়ের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পায়। অন্যদিকে ফেডেক্স সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ট্রাম্প অবশ্য শুল্ক ফেরত চাওয়ার বিষয়ে কোম্পানিগুলোকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি এটি মনে রাখবেন। তবে এই সতর্কতাকে উপেক্ষা করেই ওয়ালমার্ট ও জেনারেল মোটরসের মতো জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থ ফেরতের আবেদন করেছে। এদিকে ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, শুল্কের বোঝা সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করেছে। ২০২৫ সালে প্রতিটি মার্কিন পরিবারকে গড়ে ১ হাজার ডলার অতিরিক্ত কর দিতে হয়েছে এবং চলতি বছরও এই ব্যয় ৭০০ ডলারে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মার্চ মাসে পরিচালিত হ্যারিস ও গার্ডিয়ানের এক জরিপে দেখা গেছে, দশজন আমেরিকানের মধ্যে সাতজনই মনে করেন শুল্ক নীতি অর্থনীতির জন্য কোনো কার্যকর সমাধান নয় বরং এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। আদালতের রায়ের পর ট্রাম্প নতুন আইনি ধারা ব্যবহার করে পুনরায় ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের চেষ্টা করেছিলেন। তবে চলতি মে মাসে ইউএস ট্রেড কোর্ট সেই উদ্যোগকেও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

0%
0%
0%
0%