দোহার বৈঠকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ আলোচনার প্রস্তুতি জটিল সমীকরণ

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমন এবং স্থগিত আলোচনা পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে কাতারের দোহায় জড়ো হচ্ছেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। মার্কিন কর্মকর্তাদের উপস্থিতির একদিন পর দোহায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে ইরানি প্রতিনিধিদের। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জাসিম আল থানি ইতোমধ্যেই মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সাথে বৈঠক করেছেন।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। এর আওতায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ, ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা, দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন উত্তেজনা, মার্কিন বিমান হামলা, কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানি হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে পড়েছে।
সরাসরি আলোচনার বিষয়টি ওয়াশিংটন নিশ্চিত করলেও তেহরান বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন যে, আলোচনা সফল হোক বা না হোক, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের ইরানি হামলা সহ্য করবে না এবং এমনটি ঘটলে কঠোর সামরিক জবাব দেওয়া হবে। ভ্যান্সের মতে, তেহরানের অস্বীকার করার প্রবণতা মূলত একটি ‘পারস্য আলোচনার কৌশল’।
তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সরাসরি ওয়াশিংটনের সাথে নয়, বরং কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নেবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, দোহায় মূলত সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন এবং ইরানের ৬০০ কোটি ডলারের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে কাতারের সাথে আলোচনা করা হবে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইতোমধ্যেই এই অর্থ ছাড়কে আলোচনার প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ভাটানকা মনে করেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের কারণে শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ওয়াশিংটনের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসতে দ্বিধাবোধ করছেন। সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় তেহরানের ভেতরে অসন্তোষ দানা বাঁধছে। বিশেষ করে জব্দকৃত অর্থ ফেরত না পাওয়া এবং লেবাননে চলমান সংঘাতের জেরে ইরানি নীতিনির্ধারকরা জনসম্মুখে দায় নিতে চাইছেন না।
সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ স্কট উহলিঙ্গার জানিয়েছেন, সরাসরি আলোচনা সম্ভব না হলেও ওয়াশিংটন কারিগরি আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, মার্কিন প্রতিনিধিরা মূলত প্রযুক্তিগত আলোচনার সুযোগ নিয়ে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানোর পথ খুঁজছেন। উভয় পক্ষই বর্তমানে সমঝোতা স্মারকের খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান নিশ্চিত করতে সচেষ্ট।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা