ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষ, উদ্ধার তৎপরতায় নতুন আফটারশক আতঙ্ক

ভেনিজুয়েলার উপকূলে গত সপ্তাহে আঘাত হানা প্রলয়ংকরী জোড়া ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এক শক্তিশালী পরাঘাত বা আফটারশক জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার আঘাত হানা ৪.৬ মাত্রার এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ক্যারিবীয় উপকূলীয় শহর কারাবাল্লেদার উত্তরে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। তবে দেশটির জাতীয় পরিষদের নেতা হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এই নতুন ভূকম্পনে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

গত বুধবার ভেনিজুয়েলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। দুর্যোগের পর উদ্ধারকাজের জন্য নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার সংকটময় সময় পেরিয়ে গেলেও, উদ্ধারকারীরা এখনও জীবিতদের সন্ধানে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রবিবার কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা আশার আলো দেখালেও, সময় গড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষীণ হয়ে আসছে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়াদের বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা।

লা গুয়াইরা বন্দর নগরীসহ ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে এখন ৩০ হাজার স্থানীয় উদ্ধারকর্মী এবং ২ হাজার ৭০০ বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিন-রাত কাজ করছেন। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং ২৪টি দেশ থেকে আসা ৫০০ টনেরও বেশি ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দুর্গতদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। প্রায় ৮৬টি উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষিত কুকুরসহ তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্যোগের কেন্দ্রস্থল লা গুয়াইরার কাতিয়া লা মার এলাকায় স্বজনহারা মানুষগুলো ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষা করছেন নিজেদের প্রিয়জনের নিথর দেহ ফিরে পাওয়ার আশায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ভেনিজুয়েলার জন্য এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে খাদ্য ও পানির মজুদ থাকলে টিকে থাকার ক্ষীণ সম্ভাবনা থাকায় উদ্ধারকর্মীরা এখনো হাল ছাড়েননি।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%