সুদানের এল-ওবেইদে ড্রোন হামলা তীব্রতর, শান্তি প্রচেষ্টায় অনড় বিবদমান পক্ষসমূহ

সুদানের উত্তর করদোফানের কৌশলগত রাজধানী এল-ওবেইদে ড্রোন হামলার তীব্রতা এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) দীর্ঘস্থায়ী অবরোধে দেশটি এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। যুদ্ধরত সুদানি সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) এবং আরএসএফের মধ্যকার এই সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলের সব উদ্যোগই কার্যত ব্যর্থ হচ্ছে। বিদেশি অস্ত্রের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং জেনারেলদের সামরিক বিজয়ের উন্মাদনা শান্তি আলোচনার পথকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে।
এল-ওবেইদ শহরটি খার্তুম থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এবং দারফুর অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগকারী একটি প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। এখানে এসএএফ-এর পঞ্চম পদাতিক ডিভিশন বা ‘আল-হাগানা’ মোতায়েন থাকায় এটি সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সহিংসতা থেকে বাঁচতে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ এই শহরে আশ্রয় নিলেও, যুদ্ধের নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠায় তাদের জীবন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
জাতিসংঘ এবং কাতারসহ ৩৮টি আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, এল-ওবেইদে ড্রোন হামলার ব্যাপকতা এল-ফাশেরের মতো ধ্বংসলীলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা মাসাদ বুলোসের নেতৃত্বাধীন শান্তি প্রচেষ্টা সত্ত্বেও জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি আরএসএফ-কে নির্মূল না করা পর্যন্ত সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
সুদানভিত্তিক শিক্ষাবিদ ফাতি আবু আম্মারের মতে, এসএএফ শান্তি উদ্যোগগুলোতে বাধা সৃষ্টি করছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের শহর ছাড়ার নিরাপদ করিডোর তৈরি করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সেনাবাহিনী শহরবাসীকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইউসেফ আবদেল মান্নান এই দাবি নাকচ করে দিয়ে আরএসএফ-কে এল-ওবেইদের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ড্রোন হামলা এবং এল-ফাশেরের হাসপাতালে রোগী হত্যার জন্য দায়ী করেছেন।
সংঘাতের এই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থার পেছনে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিক ডেভিড শিনের মতে, ড্রোন প্রযুক্তি স্থানীয়ভাবে তৈরি হয় না, যার অর্থ এসব অস্ত্র বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত আরএসএফ-কে এবং মিশর ও সৌদি আরব এসএএফ-কে সহায়তা করছে, যার ফলে এই অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ এখন একটি পরোক্ষ বা প্রক্সি যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যতক্ষণ পর্যন্ত বাহ্যিক শক্তির এই সামরিক সরবরাহ বন্ধ করতে সক্ষম হবে না, ততক্ষণ সুদানের সাধারণ মানুষ এই গৃহযুদ্ধের বলি হতে থাকবে। জেনারেলরা জয়ের নেশায় মত্ত থাকায় দেশটিতে একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ বলেই মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা