পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে শঙ্কা

ফারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলায় উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। নতুন করে এই সংঘাতের জেরে অঞ্চলটিতে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ‘অনাকাঙ্ক্ষিত আগ্রাসন’ ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব দিতেই তারা তেহরানের বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রক্ষণাবেক্ষণ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই উত্তেজনাকে কঠোরভাবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি পুনরায় কোনো হামলা চালায়, তবে সহিংসতাকে কঠোর হাতে দমন করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাব দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আগ্রাসন চললে আরও বিস্তৃত পরিসরে পাল্টা আঘাত করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সিরিক বন্দরে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তবে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম অক্ষুণ্ণ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মেহের সংবাদ সংস্থা।
এই সংঘাতের ফলে জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং রণকৌশলগত রুট নিয়ে দুই পক্ষই একে অপরকে চুক্তির শর্ত ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত করছে। যদিও চলমান অস্থিরতার মাঝেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে, তবে সিঙ্গাপুর-নিবন্ধিত বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’-তে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে পুনরায় উত্তপ্ত করে তুলেছে।
লেবাননে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ এবং মার্কিন মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট’ নিয়েও কূটনৈতিক মহলে অস্বস্তি বিরাজ করছে। এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর ও বিশ্বাসযোগ্য যাচাইকরণ ব্যবস্থা থাকা অপরিহার্য। যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে ৪৪০ কেজি ওজনের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছিল, যা আন্তর্জাতিক তদারকিতে নিষ্ক্রিয় করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
