নাইজেরিয়ায় নারী নেতৃত্বের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের পথচলা

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাইদুগুরির অলিগলিতে একসময়ের ত্রাস সৃষ্টি করা গ্যাং সংস্কৃতির মূলে আঘাত হেনেছে স্থানীয় নারীদের নেতৃত্বাধীন নতুন এক শান্তি উদ্যোগ। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার কবলে পড়া এই জনপদে কেবল কঠোর আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং তরুণদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সহিংসতা দমনের নতুন পথ দেখাচ্ছেন তারা। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অপরাধ জগতের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসা একসময়ের গ্যাং সদস্যরা এখন শান্তি ফেরাতে কাজ করছেন।

বিজ্ঞাপন

নাইজেরিয়ার বোর্নো স্টেটের মাইদুগুরি এবং সংলগ্ন জেরে এলাকায় ‘মার্লিয়ান’ নামে পরিচিত কিশোর গ্যাংগুলো ছুরি, কুড়াল ও দেশি অস্ত্রের সাহায্যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। ২০২৩ সালে ধারাবাহিক প্রাণঘাতী সংঘর্ষের জেরে গভর্নর বাবাগানা উমারা জুলুম কঠোর ধরপাকড়ের নির্দেশ দেন। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি ‘ইউনিফাইড মেম্বারস ফর উইমেন অ্যাডভান্সমেন্ট’ বা ইউএমডব্লিউএ-এর মতো স্থানীয় সংগঠনগুলো ভিন্ন ধারায় কাজ শুরু করে। তারা গ্যাং সদস্যদের শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে আলোচনার টেবিলে আনার কৌশল অবলম্বন করেছে।

সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক হাসানাত ইব্রাহিম ওয়াজিরি জানান, যুদ্ধের ক্ষত ও ক্রমাগত সহিংসতার পরিবেশের মধ্যে বড় হওয়া তরুণদের অপরাধপ্রবণতা থেকে ফেরানোই ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ। ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দশটি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় গ্যাং লিডারদের সাথে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয় যে, সহিংসতার কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এতে বড় ধরনের সাফল্য এসেছে এবং প্রায় ১ হাজার গ্যাং সদস্য এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ বেছে নিয়েছে।

এই শান্তি প্রচেষ্টায় নারীরা নেপথ্য কারিগর হিসেবে কাজ করছেন। আজিলারি ও গোমারি এলাকার উন্নয়ন সমিতির নারী নেতারা এলাকায় কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তা শুরুর আগেই প্রশমনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ফাতেমা তাহির নামের এক নারী নেত্রী জানান, শুরুর দিকে পুরুষদের বাঁধার মুখে পড়লেও, সময়ের সাথে সাথে তাদের কৌশলের কার্যকারিতা প্রমাণ হয়েছে। তারা এখন স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে বিরোধ নিষ্পত্তি করছেন।

বিজ্ঞাপন

মোহাম্মদ আব্দুলহামিদের মতো অসংখ্য তরুণ, যারা অতীতে গ্যাং যুদ্ধের কারণে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত ছিলেন, তারা এখন অন্যদের সহিংসতার পথ থেকে ফেরাতে কাজ করছেন। তবে এই সাফল্য এখনো ভঙ্গুর। অনেক সাবেক গ্যাং সদস্য এখনো পুরনো শত্রুতার জেরে হুমকির মুখে রয়েছেন এবং পুনর্বাসনের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি কাঠামোর অভাব রয়েছে। তা সত্ত্বেও, স্থানীয় শান্তি কর্মীরা মনে করেন, তরুণদের মনের ভেতর শান্তির বীজ বপন করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে সমাজের সামগ্রিক পরিবর্তন সম্ভব।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%