ডিসেম্বরের মধ্যে জলাবদ্ধতামুক্ত হবে চট্টগ্রাম প্রতিশ্রুতি সিডিএ চেয়ারম্যানের

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের চলমান কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই অবশিষ্ট প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনের সময় তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। চেয়ারম্যান জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় চিহ্নিত ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ ইতিমধ্যে শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ৬টি খালের কাজের অগ্রগতি ৬৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
শহরকে একটি পরিকল্পিত ও নান্দনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, সংস্থাকে দুর্নীতি, অবৈধ দখল ও দীর্ঘদিনের স্থবিরতা থেকে মুক্ত করে একটি গতিশীল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা ছিল, যার ফলে অত্যাধুনিক মার্কেট নির্মিত হলেও তা চালু করা সম্ভব হয়নি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের একাংশ পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারের টোল প্রদানে অনীহা প্রকাশ করছেন। তিনি এই নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রসঙ্গ টেনে চেয়ারম্যান বলেন, প্রকল্পটিকে লাভজনক করতে হলে নিয়মিত টোল প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া কালুরঘাট থেকে চাক্তাই পর্যন্ত সংযোগ সড়কের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে, যা নগরের যানজট নিরসনের পাশাপাশি খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নতুন গতির সঞ্চার করবে। এই সড়কটি চালু হলে বিভিন্ন উপজেলার সাথে পণ্য পরিবহনে সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হবে।
তবে নাগরিক সচেতনতার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, কেবল সরকারি উদ্যোগে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব নয়, যদি নগরের বাসিন্দারা খালে নির্বিচারে বর্জ্য ফেলা অব্যাহত রাখেন। তিনি এ ধরনের অভ্যাস পরিহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, নগরবাসী সচেতন না হলে কোনো উন্নয়ন প্রকল্পই দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে না। পরিদর্শনের সময় সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফট্যানেন্ট কর্নেল মহসীনুল হকসহ সিডিএ’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।