ফিলিপাইনের ত্যাকলোবান স্কুলে বন্দুক হামলায় তিন শিক্ষার্থী নিহত আহত সাত

ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলীয় তকলুবান শহরে এক ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। সান জোসে ন্যাশনাল হাই স্কুলে সোমবার সকাল ৯টার দিকে সংঘটিত এই সহিংসতায় আরও সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। রাজধানী ম্যানিলা থেকে প্রায় ৫৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত লেইতে দ্বীপের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন নজিরবিহীন ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তকলুবান সিটি পুলিশ প্রধান নোয়েলিতো গেতিগান জানিয়েছেন, স্কুলের অভ্যন্তরে ঘটা এই হত্যাকাণ্ডে ৩৮ ক্যালিবার এবং ৯ মিলিমিটারের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই নবম শ্রেণির এক কিশোর সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় সন্দেহভাজন ব্যক্তি পরে কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং স্কুল প্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় প্রেসিডেন্ট গভীরভাবে শোকাহত এবং সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দেশটির শিক্ষা বিভাগ এই ঘটনাকে ‘উচ্চ সতর্কতাসূচক পরিস্থিতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। সাধারণত ফিলিপাইনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গোলাগুলির ঘটনা বিরল হলেও, এই ধরনের সহিংসতা জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের জুলাই মাসে কুয়েজন সিটির আতেনিও দে ম্যানিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান চলাকালে এক বন্দুকধারীর গুলিতে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়েছেন। বর্তমানে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা