ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কৌশলী নীরবতা ও বিতর্ক

ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার এবং এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নীরবতা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি এক শুনানিতে ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা হোয়াকিন কাস্ত্রোর সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়েন। তবে এই সংবেদনশীল বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর না দিয়ে বরং বিষয়টি ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন শীর্ষ এই মার্কিন কূটনীতিক।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির একটি অলিখিত নিয়ম হিসেবে ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনা না করার বিষয়টি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসছে। শুনানিতে রুবিও নিজেও স্বীকার করেছেন যে, এই নীরবতা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। তবে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কাস্ত্রো এই অবস্থান পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে হোয়াকিন কাস্ত্রো উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকাটা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, ইসরায়েল যদি প্রকৃতপক্ষে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়, তবে তাদের ব্যবহারের ক্ষেত্র বা রেড লাইন সম্পর্কে ওয়াশিংটনের কোনো জ্ঞান না থাকাটা বিস্ময়কর। বিশেষ করে গাজায় চলমান সংঘাত এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডের সময় এই অস্পষ্টতা বড় ধরনের সংকটের কারণ হতে পারে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির স্বাক্ষরকারী দেশ নয় ইসরায়েল। দেশটির কোনো কোনো মন্ত্রী অতীতে গাজায় পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের ইঙ্গিতও দিয়েছেন, যা বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। অথচ এমন একটি রাষ্ট্রকে প্রতি বছর কোটি কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিজ্ঞাপন

কাস্ত্রোর নেতৃত্বাধীন ৩০ জন আইনপ্রণেতা এর আগে পররাষ্ট্র দপ্তরে পাঠানো এক চিঠিতে ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সরকারি অবস্থানের স্বচ্ছতা দাবি করেছিলেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান বা সৌদি আরবের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে মার্কিন প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিলেও ইসরায়েলের ক্ষেত্রে এই নীরবতা বৈষম্যমূলক এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

জবাবে মার্কো রুবিও জানান যে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এর সাথে ভূ-রাজনৈতিক অনেক সমীকরণ জড়িত। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের জটিল বিষয় নিয়ে শ্রেণিবদ্ধ বা গোপন আলোচনার পরিবেশ থাকলে হয়তো আরও পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ উত্তর দেওয়া সম্ভব। তবে তার এই কৌশলী উত্তর যে কংগ্রেসে চলমান অস্বস্তি কমাতে পারেনি, তা আইনপ্রণেতাদের কঠোর প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%