দুর্নীতির অভিযোগে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও পাসপোর্ট জমার নির্দেশ

দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী বেগনিয়া গোমেজকে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন দেশটির আদালত। শনিবার মামলার তদন্তকারী বিচারক হুয়ান কার্লোস পেইনদো নির্দেশ দিয়েছেন যে, রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত গোমেজকে তার পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে এবং প্রতি মাসে দুবার আদালতে হাজিরা দিতে হবে। অর্থ আত্মসাৎ, প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা গ্রহণ এবং ব্যবসায়িক দুর্নীতিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।
গোমেজের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের মূলে রয়েছে একটি দুর্নীতিবিরোধী গোষ্ঠীর দায়ের করা মামলা। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মাদ্রিদের কমপ্লুটেনস বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সহ-পরিচালনায় প্রতিষ্ঠিত একটি গবেষণা চেয়ার এবং সরকারি সম্পদ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের অপব্যবহার করে নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের প্রচেষ্টা। তবে শুরু থেকেই গোমেজ এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন এবং তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী সানচেজ তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগগুলোকে তার সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের লক্ষ্যে ডানপন্থীদের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। সোস্যালিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গোমেজ বছরের পর বছর ধরে চলা একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। যদিও এই স্পর্শকাতর মামলার বিচারের জন্য এখনও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
এই ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রী সানচেজের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে, কারণ তার সরকারের একাধিক ঘনিষ্ঠ মিত্র বর্তমানে নানা দুর্নীতি মামলায় বিচারের মুখোমুখি। এর মধ্যে সাবেক পরিবহন মন্ত্রীসহ দলের প্রভাবশালী নেতারা সরকারি প্রকল্পের চুক্তি ও অতিমারির সময় মাস্ক কেনাকাটায় ঘুষ গ্রহণের মতো অভিযোগে তদন্তের আওতায় রয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও স্পেনের উচ্চ আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসে লুইস রদ্রিগেজ জাপাতেরোর বিরুদ্ধেও লবিংয়ের মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ তদন্ত করছে।
প্রধানমন্ত্রী সানচেজ নিজে সরাসরি কোনো মামলার সঙ্গে যুক্ত নন। বিরোধীদের পক্ষ থেকে বারবার পদত্যাগ ও আগাম নির্বাচনের দাবি জানানো হলেও তিনি তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গভীর অস্থিরতা বিরাজ করছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা