লেবানন নিয়ে ইসরায়েলি মন্ত্রীর উস্কানিমূলক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাল ব্রিটেন

মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবানন নিয়ে ইসরায়েলি মন্ত্রীর উসকানিমূলক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার। হিজবুল্লাহর হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ‘পুরো লেবানন পুড়িয়ে দেওয়া উচিত’ মর্মে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাকে ‘ভীষণ আপত্তিকর ও জঘন্য’ বলে অভিহিত করেছেন কুপার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বেন-গভির দাবি করেছেন, ইসরায়েলি প্রতিটি মায়ের অশ্রুর বদলে লেবাননের হাজার হাজার মায়ের কান্না দেখা উচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলকে বিশ্বজুড়ে এটি স্পষ্ট করতে হবে যে তাদের সন্তানদের রক্ত বা নাগরিকদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই গৌণ নয়। এমনকি দখলকৃত অঞ্চল থেকে সৈন্য প্রত্যাহার না করার পক্ষেও সাফাই গেয়েছেন এই উগ্রপন্থী মন্ত্রী।
বেন-গভিরের এমন বক্তব্যকে কেবল একজন উন্মাদ ব্যক্তির প্রলাপ হিসেবে দেখছে না ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এটি কোনো সাধারণ ব্যক্তির মন্তব্য নয়, বরং ইসরায়েলি সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় অবস্থান। তেল আবিবের ‘গণহত্যাকারী কাল্ট’ পুরো মানবজাতির জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘোষণা দিয়েছেন যে, দক্ষিণ লেবানন থেকে বাস্তুচ্যুত দুই লক্ষ বাসিন্দাকে কখনোই তাদের বসতভিটায় ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ লেবাননে ‘জাহান্নামের দরজা খুলে দেওয়ার’ আহ্বান জানিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২ মার্চ হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে লেবাননে মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। লেবানিজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১২ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ১ হাজার ২০০ জনের বেশি সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা