AdvertisementAdvertisement

হীরার বাজারে মন্দা: বতসোয়ানার অর্থনীতিতে অস্থিরতা ও কর্মসংস্থানের সংকট

বিশ্বের বাজারে হীরা বিক্রির মন্দা ও উৎপাদন হ্রাসের প্রভাবে বতসোয়ানার অর্থনীতি গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। দেশটির খনি খাতের এই অস্থিরতা শুধু ব্যবসায়িক সূচকেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, খনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে গণহারে ছাঁটাই এবং চুক্তভিত্তিক কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা হাজারো শ্রমিকের পরিবারকে চরম বিপাকে ফেলেছে।

দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় খনি শহর ওরাপার এক অভিজ্ঞ কর্মী মোৎশেগওয়া রাখুদু জানান, দীর্ঘ ১৪ বছর সেবা দেওয়ার পরও কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তাকে ছাঁটাই করা হয়েছে। কর্মসংস্থান নিরাপদ ভেবে তিনি ২৬ হাজার পুলা বা প্রায় ১,৯০০ ডলার ঋণ নিয়ে একটি গাড়ি কিনেছিলেন, কিন্তু এখন সেই ঋণের বোঝা ও পারিবারিক খরচ মেটাতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। তার মতো আরও অসংখ্য কর্মী এখন বেকারত্বের জ্বালায় পিষ্ট হয়ে নতুন কর্মসংস্থানের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

হীরার ওপর অতি-নির্ভরশীল বতসোয়ানার অর্থনীতি বর্তমানে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। দেবসওয়ানা ডায়মন্ড কোম্পানি ২০২৪ সালে তাদের উৎপাদন প্রায় ২৭ শতাংশ কমিয়ে ১ কোটি ৭৯ লাখ ক্যারেটে নামিয়ে এনেছে এবং ২০২৫ সালে তা ১ কোটি ৫০ লাখ ক্যারেটে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বতসোয়ানার রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং সরকারি রাজস্বের এক-তৃতীয়াংশ আসে এই হীরার খনি থেকে। এই খাতের সংকোচন সরাসরি দেশের জিডিপিতে প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতি ৫.৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দেশটির ক্রেডিট রেটিং কমিয়ে বিবিবি- পর্যায়ে নির্ধারণ করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বসোয়ানা মাইনওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মবিগানিয়ে গায়েকগোতসওয়ে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন সাধারণ শ্রমিক ও তাদের পরিবারের অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। শুধু ছাঁটাই নয়, যারা এখনো কাজে আছেন, তাদের বড় একটি অংশ স্বল্পমেয়াদী চুক্তিতে কাজ করছেন। এতে মাসিক ১৯০ থেকে ২৫০ ডলার আয়ের এই শ্রমিকদের পক্ষে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে পিষ্ট শ্রমিক পরিবারগুলো এখন প্রতিনিয়ত কর্মসংস্থান হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বতসোয়ানার এই নাজুক পরিস্থিতির জন্য একক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাকে দায়ী করছেন। সোয়ানে ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লেভি এনডোর মতে, কৃষি, পর্যটন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দ্রুত বহুমুখীকরণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। যদিও বতসোয়ানার শ্রম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পিউস মোকগোয়ারে জানিয়েছেন যে সরকার নতুন নতুন খনি প্রকল্প এবং অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণের মাধ্যমে এই সংকট কাটানোর চেষ্টা করছে, তবুও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের কাছে এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এখনো নাগালের বাইরে। মোৎশেগওয়া রাখুদুর মতো ভুক্তভোগীরা বর্তমানে কেবল পরিবারের খরচ জোগানোর মতো একটি সুযোগের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%