গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় ৯ ফিলিস্তিনি নিহত, কায়রোয় যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন হামলায় অন্তত ৯ ফিলিস্তিনি নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্তে এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার লক্ষ্যে মিশরের রাজধানী কায়রোয় হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে নতুন দফার আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হামলার ভয়াবহতায় দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস শহরের আল-মাওয়াসি এলাকায় পুলিশ পোস্টে বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে গাজা শহরের জাইতুন এলাকায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং দেইর আল-বালাহ সৈকতে এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তি আলোচনার টেবিলে হামাস নেতৃবৃন্দ মিশর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হলে কোনো ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা নেই।

গত অক্টোবর থেকে চলমান এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ৯৭১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষকরা একে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে সংঘাতে প্রায় ৯৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যেখানে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনার মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী গাজার ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা থাকলেও, বর্তমানে তা ৬৪ শতাংশে পৌঁছেছে। গত ২৮ মে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই নিয়ন্ত্রণ ৭০ শতাংশে উন্নীত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একদিকে ইসরায়েলি বাহিনী বাড়িঘর ও বাজার লক্ষ্য করে বোমা বর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে হামাস তাদের অস্ত্র সমর্পণের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার আলোচনার মাধ্যমে।

বিজ্ঞাপন

আলোচনার দ্বিতীয় ধাপে হামাসের নিরস্ত্র হওয়া এবং ইসরায়েলি বাহিনীর গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, উভয় পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে তা মাসের পর মাস ঝুলে আছে। মার্কিন সমর্থিত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর সমঝোতা না হওয়ায় অঞ্চলটির সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। কায়রোয় চলমান এই আলোচনা আগামী কয়েক দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%