বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের সমর্থনে কঠোর অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের

বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। লাতিন আমেরিকার দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে একটি ‘অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত পাজ সরকারের পতন মেনে নেবে না।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় ঘোষণা করেন, বলিভিয়ার বৈধ সরকারকে উৎখাতের যেকোনো অপচেষ্টাকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রতিহত করবে। তিনি বিক্ষোভকারী শিক্ষকদের, খনি শ্রমিক ও কৃষকদের ‘নারকো-সন্ত্রাসী’ বা মাদক চোরাকারবারিদের মিত্র হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করেছেন যে, বলিভিয়ায় মাদক সিন্ডিকেটের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ দেবে না ওয়াশিংটন।

গত ২০২৫ সালে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় বসার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন সমগ্র পশ্চিম গোলার্ধকে নিজেদের নিরাপত্তা বলয় বা ‘প্রতিবেশী এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এরই অংশ হিসেবে ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’-এর অধীনে ‘আমেরিকা কাউন্টার কার্টেল কোয়ালিশন’ বা এ৩সি নামক একটি নিরাপত্তা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন ট্রাম্প। গত মার্চ মাসে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ এই জোটের উদ্বোধনী সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন।

২০২৫ সালের অক্টোবরে দীর্ঘ দুই দশকের সমাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় বসেন পাজ। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্স্থাপনে জোর দেন, যা ২০০৮ সালে মাদকবিরোধী নীতি নিয়ে বিরোধের জেরে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তবে দেশীয় রাজনীতিতে তার শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না। ভূমি সংস্কার আইনের বিতর্ক, জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহার এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দেশটির অর্থনীতি বর্তমানে চরম সংকটের মুখে রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস এবং প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারে অস্থিরতা চরমে। গত মে মাস থেকে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করছে এবং নিয়মিত পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। যদিও বিক্ষোভকারীদের একাংশ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবি করছে, পাজ প্রশাসন তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রেসিডেন্ট পাজ মন্ত্রিসভায় রদবদল করেছেন এবং নিজের বেতন ৫০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া, গত ২৭ মে দেশটির আইনসভা বিক্ষোভকারীদের সরাতে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমতি প্রদান করে। ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকে মাদক চোরাচালান দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছে এবং পাজ সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%