১৬৫ কোটি টাকা প্রতারণা, রাজ্যের ৮ স্থানে ইডির সাড়াশি অভিযান

রাজ্যজুড়ে আর্থিক প্রতারণার এক বিশাল জাল উন্মোচন করতে মঙ্গলবার ভোরে অভিযানে নেমেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজ্যের রাজধানী কলকাতা ও বনগাঁসহ মোট ৮টি পৃথক স্থানে একযোগে তল্লাশি চালিয়েছেন তদন্তকারীরা। গত কয়েক মাসের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢাকা পড়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো।

বিজ্ঞাপন

তদন্তকারীদের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় থেকে আমানতকারীদের নিশ্চিত করেছিল যে, বেশি টাকা বিনিয়োগ করলে দ্রুত ও অতিরিক্ত সুবিধা মিলবে। এই প্রলোভনে পা দিয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ সর্বস্বান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে এই চক্রটি প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে ধারণা করছে ইডি।

তদন্তের সূত্র ধরে ইডি আধিকারিকরা বেশ কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হদিস পেয়েছেন, যেখানে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ভুয়া সংস্থার আড়ালে এই অপকর্ম চলত বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত একটি এফআইআর বা প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে বনগাঁর বাসিন্দা অভিজিৎ বিশ্বাসের নাম উঠে এসেছে, যার বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় কাউকে পাওয়া যায়নি।

বনগাঁর চারটি ভিন্ন ঠিকানাসহ উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিজিৎ বিশ্বাস এলাকায় সচরাচর অনুপস্থিত থাকেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ইডি এখন এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে এবং উদ্ধার হওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে আগামী দিনে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%