মাল্টায় সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির নিরঙ্কুশ জয়

ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র মাল্টায় টানা চতুর্থবারের মতো ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। প্রধানমন্ত্রী রবার্ট আবেলার নেতৃত্বে এই জয়কে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নাক্সার ভোট গণনা কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক ফলাফলে লেবার পার্টির নিরঙ্কুশ বিজয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই পুরো দ্বীপজুড়ে উৎসবে মেতে ওঠেন দলটির সমর্থকরা।

বিজ্ঞাপন

শনিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৮৭.৪ শতাংশ, যা ২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় কিছুটা বেশি। বিরোধী দল ন্যাশনালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক চার্লস বোনেলো রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমকে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে তিনি দাবি করেন, তাদের দল ক্ষমতাসীনদের বিশাল ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আবেলার ভাষ্যমতে, এটি দেশের সকল মানুষের জয়। এই বিজয়কে তিনি তার দলের কর্মসূচির প্রতি জনগণের জোরালো ম্যান্ডেট হিসেবে অভিহিত করেছেন। ৪৮ বছর বয়সী আবেলা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে এবং জাতীয় ঐক্যের ধারা বজায় রেখে মাল্টাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে ঘোষণা করেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় আবেলার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ন্যাশনালিস্ট পার্টির প্রার্থী ও আইনজীবী অ্যালেক্স বোরগ। আবেলার মূল কৌশল ছিল ২০১৩ সাল থেকে লেবার পার্টির অর্জিত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে ভোটারদের সমর্থন আদায় করা। গত বছর মাল্টার অর্থনীতি ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বমূল্য নিয়ে দেশটির অর্থনীতিবিদরা নতুন করে উদ্বেগে রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সাংবাদিক ড্যাফনে কারুয়ানা গালিজিয়া হত্যাকাণ্ডের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালে আবেলার ক্ষমতারোহণ ঘটে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্নীতি দমনে মাল্টা এখনও বেশ পিছিয়ে থাকলেও এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় এই বিষয়টি সেভাবে গুরুত্ব পায়নি। মাত্র ৩১৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ৫ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষের এই দ্বীপরাষ্ট্রটি বর্তমানে পর্যটন, অনলাইন গেমিং এবং আর্থিক সেবার ওপর ভিত্তি করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম শক্তিশালী ও কর্মসংস্থানবান্ধব অর্থনীতির দেশ হিসেবে টিকে আছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%