ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির শর্তাবলী আরও কঠোর করছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রায় তিন মাস ধরে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়ায় নতুন করে কঠোর শর্ত আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তির অপেক্ষায় থাকা এই প্রক্রিয়ায় ট্রাম্প আকস্মিকভাবে শর্ত পরিবর্তন করায় শান্তি আলোচনা কিছুটা দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, নতুন এই কাঠামোটি পর্যালোচনার জন্য ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং তেহরানের পক্ষ থেকে সাড়া পেতে কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে।
অ্যাকসিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক জ্বালানির ব্যবহারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চুক্তির শর্ত আরও কঠোর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের নীতিনির্ধারকদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের সীমাবদ্ধতা এবং তাদের বর্তমান অবস্থানের কারণে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট যে শর্তাবলী নির্ধারণ করেছেন তা নিশ্চিত করতে তারা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে প্রস্তুত এবং আগামী সপ্তাহের শুরুতে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানা যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তির বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখাই এই চুক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যে পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।
অন্যদিকে, ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স শনিবার পুনরায় হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে যে, কৌশলগত এই জলপথে চলাচলের আন্তর্জাতিক নিয়ম না মানলে বিদেশি বাণিজ্যিক বা সামরিক জাহাজ হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। উল্লেখ্য যে, ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই বলে দাবি করে আসছে এবং গত মার্চ মাসে সাবেক মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যে একই মত পোষণ করেছিলেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা