ইরানের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করার ঘোষণা

ইরানকে উদ্দেশ্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তেহরান চাইলেই ওয়াশিংটনকে অপেক্ষায় রেখে সময়ক্ষেপণ করতে পারবে না। পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত চলমান জটিলতায় দুই দেশের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী মন্তব্যের ফলে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও ঘনীভূত হয়েছে। বুধবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা বা অর্থ প্রদানের কোনো পরিকল্পনা মার্কিন প্রশাসনের নেই।
পিবিএস নিউজের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরানকে অবশ্যই তাদের মজুতকৃত ইউরেনিয়াম সমর্পণ করতে হবে। তেহরানের কাছে বর্তমানে ৪৪০ কেজি পারমাণবিক উপাদান রয়েছে, যা তারা কোনোভাবেই ছাড়তে রাজি নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই ইউরেনিয়াম হয় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করে ধ্বংস করতে হবে, অথবা ইরানের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিজ ভূমিতেই ধ্বংস করতে হবে। অথচ এক মাস আগেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে, যা দ্রুতই তেহরান অস্বীকার করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কোনো উস্কানি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। ওই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনি স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ইরানের পাল্টা হামলায় হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করছেন ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তারা চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছে, যদিও আট এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও আলোচনার গতি অত্যন্ত শ্লথ।
তেহরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া ও যুদ্ধ অবসানের একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে কাজ চলছে। কিন্তু হোয়াইট হাউস এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট আখ্যা দিয়ে নাকচ করে দিয়েছে। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই ইরানের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না। ওমান যদি এই প্রক্রিয়ায় জড়িত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের মতে, ইরান বর্তমানে একটি পরাজিত শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে এবং ওয়াশিংটনের সামরিক সক্ষমতার কাছে তারা নতি স্বীকার করতে বাধ্য। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে এবং উপযুক্ত আচরণ করলেই কেবল তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। চলমান এই টানাপোড়েনে দুই দেশই চূড়ান্ত সমঝোতার দাবি করলেও, কার্যত কোনো পক্ষই কোনো দৃশ্যমান ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
