কসোভো যুদ্ধের গণকবরের সন্ধানে তৃতীয় স্থানের খনন শুরু

১৯৯৮-৯৯ সালের কসোভো যুদ্ধের সময়কার যুদ্ধাপরাধের তদন্তে নতুন করে আরও একটি সম্ভাব্য গণকবরের সন্ধান পেয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে মোট তিনটি স্থানে খননকাজ চালানোর পরিকল্পনা করছে প্রশাসন। সোমবার দ্বিতীয় স্থানটিতে দেহাবশেষ উদ্ধারের পর মঙ্গলবার নতুন করে তৃতীয় স্থানে অনুসন্ধান শুরুর প্রক্রিয়াটি সামনে আসে। এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে, যা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
প্রসিকিউটর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে থাকায় এ মুহূর্তে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া এসব দেহাবশেষ ১৯৯৯ সালের বসন্তকালে সহিংসভাবে অপহৃত ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া ২৩ জন জাতিগত আলবেনীয়র হতে পারে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার এই দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সরকারি কৌঁসুলিরা।
কসোভোর জুবিন পোটোক এলাকায় গত সপ্তাহে খননকাজ শুরু হওয়ার পর তা আশপাশের গ্রামগুলোতেও বিস্তৃত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই এলাকাগুলোতে ২৩ জন পর্যন্ত মানুষের মরদেহ সমাহিত থাকতে পারে। যুদ্ধকালীন এই নৃশংসতার ক্ষত এখনো দগদগে। এখন পর্যন্ত কসোভো পুলিশ যুদ্ধাপরাধের সন্দেহে স্থানীয় তিনজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
দেশটির বিচারমন্ত্রী আলবুলেনা হাকসিউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় সার্বিয়ার বিরুদ্ধে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে সত্য গোপনের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, সার্বিয়া এখনো সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তার মতে, নিখোঁজ প্রতিটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত এবং দোষীদের বিচারের আওতায় না আনা পর্যন্ত যুদ্ধের সেই ক্ষত শুকাবে না।
উল্লেখ্য যে, স্বাধীনতা প্রত্যাশী জাতিগত আলবেনীয় এবং সার্বীয় সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার সেই ভয়াবহ যুদ্ধে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। সে সময় বাস্তুচ্যুত হয়েছিল দশ লক্ষাধিক মানুষ। কসোভো কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, যুদ্ধের প্রায় দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনো এক হাজার ছয়শ মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। এই দীর্ঘ অনুসন্ধান প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সার্বিয়ার কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে প্রিস্টিনা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
