আলবেনিয়ায় কুশনারের রিসোর্ট প্রকল্পের জমিতে জালিয়াতির তদন্ত শুরু, তীব্র হচ্ছে জনবিক্ষোভ

আলবেনিয়ার সংরক্ষিত উপকূলীয় অঞ্চলে জ্যারেড কুশনার সমর্থিত একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত জমির মালিকানা দলিলের সত্যতা নিয়ে শুরু হয়েছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত। রয়টার্সের প্রাপ্ত নথিপত্র অনুযায়ী, আলবেনিয়ার দুর্নীতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন বিশেষ সংস্থা (এসপিএকে) খতিয়ে দেখছে যে, এই জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় কোনো জালিয়াতি করা হয়েছে কি না। এই আইনি জটিলতা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন রিসোর্ট প্রকল্পটির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র জনরোষ ও বিক্ষোভ ক্রমেই দানা বাঁধছে।
তদন্তকারীদের নথিতে উঠে এসেছে যে, মায়ামি-ভিত্তিক ব্যবসায়ী আর্তুর শেহু চলতি বছরের এপ্রিলে আলবেনিয়া ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে এই জমি হস্তান্তর করেন। সরকারি কৌঁসুলিদের অভিযোগ, কোকেন পাচারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধ করার লক্ষ্যে ভুয়া মালিকানা দলিল তৈরি করা হয়েছিল। এই মামলার সূত্র ধরে শেহুর একটি নোটারি অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ১১০ মিলিয়ন ইউরো বা ১২৬.২৮ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আর্তুর শেহুর আইনজীবী কুজতিম চাকরানি সব তথ্য নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার মক্কেল কোনো পাচারকারী বা জালিয়াত নন; বরং তার পরিবার অটোমান আমল থেকে এই জমির বৈধ মালিক। চাকরানির দাবি, আলবেনিয়ার বিচার বিভাগ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থে প্রভাবিত, তাই এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এদিকে, কুশনার বা তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই জমি নিয়ে কোনো নেতিবাচক তথ্য জানার প্রমাণ রয়টার্সের অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি।
এই রিসোর্ট প্রকল্পটি আলবেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের সংরক্ষিত জলাভূমি ও সৈকতে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা সামুদ্রিক কচ্ছপ ও ফ্লেমিঙ্গোর প্রাকৃতিক আবাসস্থল। স্থানীয় আন্দোলনকারীরা এই পাখিকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে ‘ফ্লেমিঙ্গো বিপ্লব’ নামে একটি বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। গত মে মাস থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন প্রধানমন্ত্রী এডি রামাসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তাব্যক্তিদের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে।
গত সপ্তাহে রাজধানী তিরানায় সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দাঙ্গা পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়। সংঘর্ষে ১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং অন্তত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে ১৯ জনকে রোববার আদালত মুক্তি দিয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকার আলবেনিয়াকে ধনকুবেরদের খেলার মাঠে পরিণত করতে চাইছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রকল্প এলাকাটির প্রকৃত মালিকানা নিয়ে গ্রামবাসীর দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াই এখনো চলমান। স্থানীয় বাসিন্দা নিকোলিন মার্কপালাজ জানান, জবরদস্তির মাধ্যমে অন্যের সম্পত্তি দখল করা সহজ হবে না বলে তারা শুরু থেকেই সতর্ক করে আসছেন। তবে আলবেনিয়ার বর্তমান সরকার এসব বিক্ষোভকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্ররোচনা বলে অভিহিত করেছে এবং প্রকল্পটি দেশীয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন মেনে পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
