AdvertisementAdvertisement

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত

হরমুজ প্রণালী দিয়ে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ জাহাজ চলাচলের পথ সুগম করতে ওমান ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে কৌশলগত এই জলপথটি পুনরায় সচল করাকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রুবিও মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে বা তার পরবর্তী দু-একদিনের মধ্যেই একটি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হতে পারে। তেহরানের কূটনৈতিক সূত্রগুলোও একই আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা ইতিবাচক হলেও কৌশলগত এই জলপথ ব্যবহারের পদ্ধতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে। মূলত সামুদ্রিক মাশুল ও প্রণালী পরিচালনার রূপরেখা নিয়ে উভয় পক্ষ এখনো আলোচনার টেবিলে দরাদরি করছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে উত্তেজনা প্রশমনের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। একইসঙ্গে পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যদিও সেই সফরের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। পেন্টাগনের প্রাক্তন পরিচালক ডেভিড দেস রোচেস আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় জাহাজ চলাচলের অধিকার সীমিত রেখে ওমানের জলসীমা দিয়ে নিরাপদ পথ নিশ্চিত করাই হতে পারে এই আলোচনার সর্বোত্তম ফলাফল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

একই সময়ে রোমে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে। জুন মাসের কাঠামো চুক্তির অধীনে হেজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ ও দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন জটিল বিষয়ে উভয় পক্ষ এখনো অটল অবস্থানে রয়েছে। কূটনৈতিক এই সূক্ষ্ম অগ্রগতির পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

মঙ্গলবারের এক ঘটনায় ইয়েমেনের উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভারতের একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। ইয়েমেনি কোস্টগার্ড ওই জাহাজের ১৪ জন নাবিককে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। পৃথক ঘটনায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের নাজরান বিমানবন্দরের রাডার ধ্বংস হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান বিবাদ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%