গাজা ত্রাণবহরের অস্ট্রেলীয় কর্মীদের ওপর ইসরায়েলি নির্যাতনের অভিযোগ

অবশেষে দেশে ফিরেছেন গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়া বহরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে আটক অস্ট্রেলীয় মানবাধিকার কর্মীরা। ফ্লোটিলা আয়োজকদের অভিযোগ, আটকাবস্থায় কর্মীদের ওপর চলে ব্যাপক নির্যাতন, যৌন হয়রানি ও মারধর, যার ফলস্বরূপ কয়েকজনকে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছে। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবরুদ্ধ গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়ার সময় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের আটক করে। রবিবার সন্ধ্যায় একজন কর্মী মেলবোর্নে পৌঁছান, এবং সোমবার বাকিরা সিডনি, মেলবোর্ন ও ব্রিসবেনে ফিরে আসেন।

বিজ্ঞাপন

অস্ট্রেলীয় কর্মী ও তথ্যচিত্র নির্মাতা জুলিয়েট ল্যামন্ট সোমবার রয়টার্স সংবাদ সংস্থাকে জানান, তাকে আটক করার পর টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়, যৌন হয়রানি করা হয় এবং মারধর করা হয়। তিনি বলেন, “এটা ছিল চার দিনের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার শুরু মাত্র। আমি মহাবিশ্বের সবচেয়ে আত্মাবিহীন মানুষের চোখে তাকিয়েছি, কিন্তু সেখানে কিছুই দেখতে পাইনি। এসব মানুষকে অবশ্যই থামাতে হবে।”

আরেক অস্ট্রেলীয় কর্মী স্যাম ওয়োরিপা ওয়াটসন জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও কাটা-ছেঁড়ার পাশাপাশি একটি পাঁজরের হাড় ভেঙেছে। ওয়াটসন আরও বলেন, তিনি সহকর্মীদের ওপর টেজার ব্যবহার, রাবার বুলেট নিক্ষেপ এবং স্টান গ্রেনেড ছুড়তে দেখেছেন।

গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত ৫০টি নৌকায় ৪৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন, যাদের মধ্যে ১১ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক। এই বহরে প্রায় ৪০টি দেশের নাগরিকরা গাজায় সহায়তা নিয়ে যাচ্ছিলেন। ফ্লোটিলা আয়োজকরা অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে অপহৃত এই কর্মীদের ইসরায়েলি হেফাজতে থাকাকালীন ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে; যার মধ্যে অন্তত ১৫টি যৌন হয়রানি বা ধর্ষণের ঘটনাও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আমিরুদ্দিন শারি সোমবার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে আসা ফ্লোটিলার কর্মীদের স্বাগত জানানোর এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আইনজীবীরা মালয়েশীয় কর্মীদের প্রতি কথিত দুর্ব্যবহারের তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ চূড়ান্ত করলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তার দেশ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “আমরা চুপ থাকব না। আমরা থামব না। আইনি দল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সমস্ত নথি সংগ্রহ করছে। তাদের [ফ্লোটিলার অংশগ্রহণকারীদের] একাধিকবার অপহরণ করা হয়েছে। তাদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে।” শারি আরও যোগ করেন, “আমরা এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে যাব। আমরা কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখব, এবং আমরা মালয়েশিয়া জুড়ে ভ্রমণ করব।”

গত সপ্তাহে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে দেখা যায় আশদোদ বন্দরে ফ্লোটিলার কর্মীরা চোখ বাঁধা ও হাত বাঁধা অবস্থায় হাঁটু গেড়ে বসে আছেন। এই ফুটেজটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে, যার প্রতিক্রিয়ায় ফ্রান্স বেন-গভিরকে তাদের দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।

রবিবার কাতার, সৌদি আরব, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, মিশর এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বেন-গভিরের এই পদক্ষেপকে “ভয়াবহ, অবমাননাকর ও অগ্রহণযোগ্য” বলে নিন্দা করেছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, আটককৃতদের প্রতি বেন-গভিরের “উদ্দেশ্যমূলক জনসমক্ষে অবমাননা” আন্তর্জাতিক মানবিক ও মানবাধিকার আইনের অধীনে ইসরায়েলের বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%