AdvertisementAdvertisement

হরমুজ প্রণালী থেকে দূরে থাকতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের হুঁশিয়ারি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হর্মুজ প্রণালীতে আটকা পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে পথ দেখানোর উদ্দেশ্যে সোমবার থেকে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের একটি অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মার্কিন নৌবাহিনীকে ওই কৌশলগত জলপথ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। সোমবার ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন বাহিনী প্রণালীতে প্রবেশ করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে। দীর্ঘ দুই মাস ধরে ইরানের অবরোধের কারণে এই জলপথে বহু জাহাজ আটকা পড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ইন্ধন জুগিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রবিবার তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা করেন যে, হর্মুজ প্রণালীতে আটকা পড়া ‘নিরপেক্ষ ও নিরীহ’ দেশগুলোর অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযান শুরু করছে। তিনি জানান, বহু জাহাজে খাদ্য ও ক্রুদের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন যে, এই অভিযানে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হলে তা ‘জোরপূর্বক মোকাবিলা করা হবে’।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সোমবার এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনীর সম্মিলিত কমান্ডের প্রধান আলি আব্দুল্লাহি জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী হর্মুজ প্রণালীতে প্রবেশ করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে। তিনি বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় না করে চলাচল থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা হুঁশিয়ারি দিচ্ছি যে, যেকোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী, যদি হর্মুজ প্রণালীর কাছাকাছি আসে বা প্রবেশ করতে চায়, তবে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে।”

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ১৫,০০০ সামরিক সদস্য, ১০০টিরও বেশি স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং ড্রোন দিয়ে এই অভিযানে সহায়তা করবে। সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এই প্রতিরক্ষা মিশনে আমাদের সমর্থন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য, কারণ আমরা নৌ অবরোধও বজায় রাখছি।”

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ইরান নিজেদের ব্যতীত অন্যান্য দেশের প্রায় সব জাহাজকে পারস্য উপসাগর থেকে চলাচল বন্ধ করে রেখেছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের গড় মূল্য যুদ্ধ শুরুর আগের ৩ ডলারের কম থেকে বেড়ে প্রতি গ্যালন ৪.৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই নতুন পরিকল্পনা হর্মুজ প্রণালীর পরিস্থিতিকে বিপজ্জনকভাবে উত্তপ্ত করতে পারে। আল জাজিরার তেহরান থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান মনে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপ ৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর সামরিক জবাব দেওয়া হবে। কিলওভেন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক মার্কিন নৌ কর্মকর্তা হারলান উলম্যান আল জাজিরাকে জানান, ইরানের হাতে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ছোট নৌযান রয়েছে যা এই অভিযানকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলতে পারে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আক্রান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা আঘাত ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প দেখবে না।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%