ধর্মীয় পরামর্শ নিতে আসা নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত যাজকের স্বীকারোক্তি আদালতে পেশ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ওয়েকো শহরে ক্যাথলিক চার্চের এক যাজকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অ্যান্থনি ওডিওং নামক ৫৭ বছর বয়সী ওই যাজকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আধ্যাত্মিক নির্দেশনার আড়ালে নারীদের দুর্বলতাকে পুঁজি করে তাদের ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন। বুধবার আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এক ভুক্তভোগীর সন্তান জানান, তিনি নিজ বাড়িতেই যাজককে তার মায়ের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলেছিলেন।

সাক্ষ্য অনুযায়ী, ডিভোর্সের পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই নারীকে আধ্যাত্মিক পরামর্শ দেওয়ার নাম করে নিয়মিত বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন ওডিওং। ঘটনার দিন ওই তরুণ নিজ ঘরে অস্বাভাবিক শব্দ শুনে দরজা খুলে যাজককে নগ্ন অবস্থায় তার মায়ের ওপর দেখতে পান। পরবর্তীতে এই বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ওডিওং নির্লিপ্তভাবে উত্তর দিয়েছিলেন, 'আমরা কেবল মানুষ', যা আদালতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার পর স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যাপলেইন বার্ট বার্লসন বিষয়টি চার্চের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। কিন্তু অদ্ভুতভাবে ওডিওংয়ের বিরুদ্ধে সে সময় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং দীর্ঘ সময় ধরে তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গেছেন এবং পরে লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে বদলি হয়ে যান। দীর্ঘদিন পর সংবাদমাধ্যমে ওডিওংয়ের বিরুদ্ধে অন্যান্য নারীদের অভিযোগ প্রকাশিত হলে ওই ভুক্তভোগী নারী সাহস সঞ্চয় করে পুলিশের শরণাপন্ন হন।

তদন্তকারীদের তথ্যমতে, ওডিওং অন্তত ১০ জন নারীকে একইভাবে টার্গেট করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে পাঁচটি ফার্স্ট-ডিগ্রি এবং দুটি সেকেন্ড-ডিগ্রি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। যদিও ওডিওং নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আদালতে বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করেন যে, যাজক যখন চার্চের বাইরে থাকেন তখন তিনি সাধারণ মানুষ হিসেবেই বিবেচিত হন। তবে নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানন ল বিশেষজ্ঞ জন পল কিমস আদালতে সাক্ষ্য দেন যে, ক্যাথলিক যাজকরা কখনোই দায়িত্বের বাইরে নন এবং আধ্যাত্মিক ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই বিচারিক প্রক্রিয়া আগামী সোমবার পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

০%
০%
০%
০%