ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রাম্পপন্থী প্রচারে অংশ নেওয়া প্রবীণ যোদ্ধার ওপর হামলায় মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান দিয়েগো এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে হামলার শিকার এক প্রবীণ সেনা সদস্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। গত ২০ মে এসকন্ডিডো শহরে ৬৯ বছর বয়সী কেরি শেরন নামক ওই ব্যক্তি হামলার শিকার হন। নিজের বাসভবনের সামনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে ব্যানার ও মার্কিন পতাকার ব্যাপক প্রদর্শনীর জন্য পরিচিত ছিলেন শেরন। ঘটনার কয়েকদিন পর সোমবার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

সামরিক বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিলিটারি ডট কমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শেরনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। সে সময় শেরনকে বাঁচাতে গিয়ে আরেকজন পথচারীও আঘাতপ্রাপ্ত হন। ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে ৩২ বছর বয়সী টমাস বাটলার নামক একজনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত বাটলার নিজেও একজন নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য বলে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

প্রসিকিউটর রস গার্সিয়া জানান, শেরনের ওপর এই হামলা ছিল সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে। হামলায় বাটলার তার চোয়ালে একটি শক্তিশালী ঘুষি মারলে শেরন মাটিতে পড়ে যান এবং এরপর তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর জখম হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে বাটলারের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, প্রবীণ ব্যক্তির ওপর নির্যাতন ও মারধরের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনার মোটিভ বা কারণ এখনো তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। পুলিশের প্রাথমিক ভাষ্যমতে, এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি যা ইঙ্গিত করে যে এই হামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। তবে শেরনের পরিবার একে 'বর্বর ও অনাকাঙ্ক্ষিত আক্রমণ' হিসেবে অভিহিত করেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেট মাইনরিটি লিডার ব্রায়ান জোন্স এই মৃত্যুকে ‘বিবেচনাহীন’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, স্বাধীনতা, দেশপ্রেম এবং প্রেসিডেন্টকে সমর্থনের কারণেই শেরনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে একজন বৃদ্ধ মানুষকে হত্যা কেবল হৃদয়বিদারকই নয়, বরং তা মার্কিন মূল্যবোধের চরম পরিপন্থী।

বর্তমানে অভিযুক্ত টমাস বাটলার জামিন অযোগ্য অবস্থায় পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। আগামী ৩ জুন তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

০%
০%
০%
০%