হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর মাশুল আদায়ের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ওমান যদি যথাযথ আচরণ না করে তবে তাদের ওপর সামরিক হামলা চালানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, কোনো একক দেশ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এর সার্বিক নজরদারিতে থাকবে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে ইরান হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে রেখেছে। এই জলপথটি বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান মার্কিন মিত্র ওমানকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছে যাতে তারা এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে মাশুল আদায়ের একটি প্রক্রিয়ায় সমর্থন দেয়। এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করেই বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে সরাসরি ওমানকে লক্ষ্য করে বলেন, ওমান যদি অন্য সবার মতো যথাযথ আচরণ প্রদর্শন না করে, তবে তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ওমান বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং তাদের এই কঠোর বার্তার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রণালীটি আন্তর্জাতিক জলসীমার অংশ এবং কোনো পক্ষই এর ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
ইতোমধ্যে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টায় কার্যত কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, তেহরান আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ করার কৌশল অবলম্বন করছে। এদিকে, সমঝোতার গুঞ্জন ওঠায় রিপাবলিকান দলের ভেতরেও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সিনেটের সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার সতর্ক করে বলেছেন, প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের সমস্ত অর্জন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।