যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় অগ্রগতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন, ব্যারেলপ্রতি দাম নেমেছে ৭১ ডলারের নিচে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির খবরের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী স্তরে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য বৃহস্পতিবার ১ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৭১ ডলারের নিচে নেমে গেছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের পক্ষ থেকে শান্তি চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত মেলায় দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসানের আশা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তিতে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে প্রতি ব্যারেল ৭০.৮২ ডলারে নেমে আসে, যা গত ২৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন। এই দরপতনের ফলে গত ৩০ এপ্রিলের যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারের চেয়ে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য বর্তমানে প্রায় ৩৮ শতাংশ কমেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সমাধানের লক্ষ্যে পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার নিশ্চিত করেছে।

এই আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া বেশ ভালোভাবে এগিয়ে চলেছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক জ্বালানি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভান্দা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হারি উল্লেখ করেছেন, পারস্য উপসাগর থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সমঝোতা স্মারকের বেশ কিছু অমীমাংসিত বিষয় থাকলেও দুই পক্ষই আপতত হরমুজ প্রণালীর অন্তর্বর্তীকালীন ট্রানজিট ব্যবস্থা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে মোট বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হলেও গত কয়েক দিনে তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সামুদ্রিক যান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার ও সোমবার যথাক্রমে ২২টি ও ২৭টি জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করলেও গত মঙ্গলবার তা বৃদ্ধি পেয়ে ৪০টিতে দাঁড়িয়েছে।

তবে স্বাভাবিক সময়ের দৈনিক প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচলের তুলনায় বর্তমান চিত্র এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে, যা এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে এখনো উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়। গত ১৭ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের প্রতিশ্রুতি দিলেও ইরান পরবর্তীতে এই প্রণালী নিয়ন্ত্রণের একক দাবি করে আসছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অন্তত ৪৯টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যার বেশিরভাগেরই দায় তেহরানের ওপর বর্তায়।

০%
০%
০%
০%