দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভের জেরে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় ৯০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। মঙ্গলবার আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১২০টি মিছিল বের করা হয়, যার মধ্যে ১২টিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জোহানেসবার্গের আলেকজান্দ্রা টাউনশিপে বিদেশিদের মালিকানাধীন দোকানপাটে লুটপাটের সময় গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া হিলব্রো এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরসহ দুইজন আহত হয়েছে।
নথিবিহীন অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার জন্য একটি অনানুষ্ঠানিক সময়সীমা বেঁধে দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভের ডাক দেয় 'মার্চ অ্যান্ড মার্চ' নামক সংগঠনসহ ২০টিরও বেশি নাগরিক সমাজ গোষ্ঠী। ডেপুটি ন্যাশনাল পুলিশ কমিশনার তেবালো মোশিকিলি বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, ডাকাতি এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওয়েস্টার্ন কেপে সর্বোচ্চ ২১৫ জন এবং ইস্টার্ন কেপে ২০৮ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা সোমবার বিক্ষোভের আয়োজকদের সাথে জরুরি বৈঠকে বসেন। তিনি স্বীকার করেন যে, অবৈধ অভিবাসন এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো নিয়ে নাগরিকদের উদ্বেগ অত্যন্ত বাস্তব এবং তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, যেকোনো অজুহাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই এবং সাংবিধানিক গণতন্ত্রে এ ধরনের অবিবেচনাপ্রসূত আচরণের কোনো স্থান নেই।
ডারবানে হাজারো বিক্ষোভকারী 'আবাহাম্বে' বা 'তাদের চলে যেতে হবে' স্লোগান দিয়ে রাজপথে নেমে আসেন। আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী জাসিন্তা এনগোবেসে-জুমা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সরকার কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর না করা পর্যন্ত প্রতি বৃহস্পতিবার এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিবাসীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, দেশের গভীর আর্থসামাজিক সংকট, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং ভঙ্গুর আশ্রয়প্রার্থী ব্যবস্থার ব্যর্থতাকে আড়াল করতে অভিবাসীদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এখন এক জটিল রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটের রূপ নিয়েছে।