ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় বিপর্যস্ত রাশিয়ার জ্বালানি খাত, দেশজুড়ে তীব্র সংকট ও রেশনিং শুরু

ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ফলে রাশিয়ার জ্বালানি পরিশোধন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি বর্তমানে তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে। মস্কোসহ রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, কোথাও কোথাও আবার পাম্পগুলো সম্পূর্ণ জ্বালানিশূন্য হয়ে পড়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি রেশনিং করতে বাধ্য হয়েছে।

মস্কোর রাস্তায় গাড়ির জ্বালানি নিতে আসা ইরিনা নামের এক নারী জানিয়েছেন, পরিস্থিতির অনিশ্চয়তায় তিনি গভীরভাবে ভীত। ইগোর নামে আরেক বাসিন্দা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই সংকট যদি বড় শিল্পকারখানাগুলো বন্ধের দিকে ধাবিত করে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকট পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দেবে, যা শেষ পর্যন্ত নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী করার আশঙ্কা তৈরি করছে।

ন্যাশনাল এনার্জি সিকিউরিটি ফান্ডের বিশেষজ্ঞ স্তানিস্লাভ মিত্রাখোভিচ জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার প্রায় ২৫ শতাংশ তেল শোধন ক্ষমতা অকেজো হয়ে পড়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন এ সংকটকে স্বীকার করতে না চাইলেও এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দেশটিতে বর্তমানে প্রতি গাড়িতে ২০ থেকে ৩০ লিটার জ্বালানি নেওয়ার সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে এবং জেরিক্যানে তেল নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাশিয়া পেট্রোল ও জেট ফুয়েল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ডিজেল রপ্তানি বন্ধের বিষয়টিও বিবেচনা করছে। জ্বালানির চাহিদা মেটাতে বেলারুশ ও ভারতসহ এশীয় দেশগুলোর দিকে ঝুঁকেছে মস্কো। রয়টার্সের তথ্য মতে, ভারত থেকে ইতোমধ্যে ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টন পেট্রোল আমদানি করা হয়েছে এবং প্রতি মাসে ৪ লাখ টন পেট্রোল আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে ক্রেমলিন।

যদিও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন যে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি, তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলাগুলো সমস্যা সৃষ্টি করছে। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশটির সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীকে ৪০ দিনব্যাপী বিশেষ অভিযানের অনুমোদন দিয়েছেন, যার লক্ষ্য রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়িয়ে যুদ্ধ অবসানে বাধ্য করা। বিশেষজ্ঞ স্তানিস্লাভ মিত্রাখোভিচের মতে, জ্বালানি সংকটের এই উত্তাল পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের ড্রোন হামলা আর রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার লড়াইয়ের ওপর নির্ভর করছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%