ইবোলা মোকাবিলায় কেনিয়ায় মার্কিন কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র স্থাপন

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা আক্রান্ত বা ঝুঁকিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে না এনে কেনিয়াতে পৃথকীকরণ ও চিকিৎসার জন্য একটি কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোয়াইট হাউস। বুধবার এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ দূরত্বের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন এড়িয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতেই কেনিয়াতে এই বিশেষায়িত কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কেন্দ্রে ইবোলা আক্রান্তদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হবে এবং রোগীর অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হবে কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে। তবে আক্রান্তরা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি প্রশাসন। ইতিমধ্যে গ্রিন কার্ডধারীসহ সাম্প্রতিক সময়ে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান ভ্রমণকারী মার্কিন নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ব্রাউন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব পাবলিক হেলথের মহামারি বিশেষজ্ঞ জেনিফার নুজো একে অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, আক্রান্তদের নিজ দেশে ফিরিয়ে এনে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা প্রদান না করাটা বড় ধরনের ভুল। নুজো সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এমন কঠোর নীতি অনুসরণ করলে অনেকে সংক্রমণের তথ্য গোপন করতে পারেন, যা শেষ পর্যন্ত মহামারি নিয়ন্ত্রণে বাধা হয়ে দাঁড়াবে এবং ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে।

রেফিউজিস ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট জেরেমি কোনিনডাইক এই উদ্যোগকে মার্কিন স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরুৎসাহজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, ২০১৪ সালের ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময় এমন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি, কারণ এতে কাজের গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বর্তমান এই বিধিনিষেধের ফলে দক্ষ মার্কিন স্বাস্থ্যকর্মীরা এখন আর স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী হবেন না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত ব্যক্তি যদি রোগলক্ষণমুক্ত থাকেন তবে পরিবহনের ঝুঁকি অত্যন্ত কম। ইবোলাসহ অন্যান্য সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্তদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তথাপি সরকারের এই নতুন কৌশলের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকারের বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

০%
০%
০%
০%