ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের অদূরে অবস্থিত চ্যানেল আইল্যান্ডস ন্যাশনাল পার্কের সান্তা রোসা দ্বীপে দাবানলের ভয়াবহ তাণ্ডব এক বিরল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরেছে। নাসা-র স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত সাম্প্রতিক চিত্রে দেখা গেছে, দ্বীপটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভূমি দাবানলের কবলে পড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। গত ২০ মে নাসার মডারেট রেজোলিউশন ইমেজিং স্পেকট্রোর্যাডিওমিটারের মাধ্যমে তোলা ছবিতে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে কালো পোড়া দাগের ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ হাজার ৩০০ একরের বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই অগ্নিকাণ্ড দ্বীপটির ইতিহাসের বৃহত্তম দাবানল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপের বাস্তুসংস্থান আগুনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর উপযোগী নয়, ফলে এই মাত্রার দাবানল সেখানকার পরিবেশের জন্য এক অভূতপূর্ব হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা তীব্র বাতাস এবং দুর্গম ভূখণ্ডের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেয়েছেন, যেখানে সামুদ্রিক কুয়াশার কারণে আকাশপথে সহায়তা নেওয়াও ছিল অত্যন্ত দুঃসাধ্য।
এই দ্বীপটিকে প্রায়ই 'ক্যালিফোর্নিয়ার গালাপাগোস' হিসেবে অভিহিত করা হয়, কারণ এখানকার পাহাড় ও সামুদ্রিক বনভূমি বিচিত্র বন্যপ্রাণীর এক অনন্য আবাসস্থল। সান্তা রোসাতে ৪৬ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে, যা বিশ্বের আর কোথাও পাওয়া যায় না। বিশেষ করে সাতটি ফেডারেল তালিকাভুক্ত উদ্ভিদ প্রজাতি এবং আইল্যান্ড ফক্সের মতো বিরল প্রাণীর অস্তিত্ব এই বিপর্যয়ের ফলে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অগ্নিনির্বাপণ প্রক্রিয়ার সময় যাতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য জীববিজ্ঞানীদের একটি বিশেষজ্ঞ দল সেখানে অবস্থান করে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
বর্তমানে কর্তৃপক্ষের মনোযোগ এখন দ্বীপটির পুনর্বাসন এবং বাস্তুসংস্থান পুনরুদ্ধারের দিকে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের দমকল বাহিনীর বিশেষজ্ঞ দলগুলো আগুনের তীব্রতা বিশ্লেষণ করছে এবং পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে। বার্নড এরিয়া ইমার্জেন্সি রেসপন্স বা বিএইআর-এর বিশেষজ্ঞরা মাটির স্থিতিশীলতা, পানিপ্রবাহের পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে কাজ শুরু করার অপেক্ষায় রয়েছেন।
সান্তা রোসা দ্বীপটি কেবল জীববৈচিত্র্যের আধার নয়, বরং ১৩ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো চুমাশ আদিবাসীদের প্রাচীন ঐতিহ্যের সাক্ষী। দ্বীপের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বিরল প্রজাতির টরে পাইন গাছগুলো দাবানলে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভাগ্যক্রমে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে। বিশেষজ্ঞেরা এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন কীভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্বীপটির হৃত সৌন্দর্য ও অনন্য প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।