মোনজায় রূপকথার জয় কিমি আন্তোনেল্লির ষাট বছরের খরা কাটিয়ে ইতালিয়ান গ্রঁ প্রিতে ইতিহাস

ইতালিয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্সের ইতিহাসে এক রূপকথার জন্ম দিলেন কিমি আন্তোনেলি। গ্রিডের ১৯ নম্বর স্থান থেকে যাত্রা শুরু করে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়ে ৬০ বছরের দীর্ঘ খরা কাটালেন এই তরুণ তুর্কি। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম ইতালিয়ান হিসেবে নিজের ঘরের মাঠে গ্র্যান্ড প্রিক্স জয়ের অনন্য কীর্তি গড়লেন মার্সিডিজের এই ২০ বছর বয়সী চালক।

মৌসুমের সপ্তম জয়টি তুলে নিয়ে ড্রাইভার্স চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে নিজের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করলেন আন্তোনেলি। ১৯৫৩ সালের পর প্রথম ইতালিয়ান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে তিনি এখন অপ্রতিরোধ্য। রেসের শুরুতে পাওয়ার ইউনিটে পরিবর্তনের কারণে পেনাল্টি পেয়ে পিছিয়ে পড়লেও, দুর্দান্ত গতি ও কৌশলী ড্রাইভিংয়ে তিনি পুরো ফিল্ডকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যান।

রোমাঞ্চকর এই রেসে আন্তোনেলি তার সতীর্থ ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জর্জ রাসেলকে ৩.৮৫৭ সেকেন্ডের ব্যবধানে পেছনে ফেলে ফিনিশিং লাইনে পৌঁছান। রেড বুলের হয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন চারবারের চ্যাম্পিয়ন ম্যাক্স ভারস্টাপেন। রেসের শুরুতে চার্লস লেক্লেয়ারের দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ছিটকে যাওয়া এবং লুইস হ্যামিল্টনের ষষ্ঠ স্থানে রেস শেষ করা ছিল ফেরারির ভক্তদের জন্য বড় হতাশার কারণ।

রেস শেষে আবেগাপ্লুত আন্তোনেলি জানান, এমন জয় তার কল্পনারও অতীত ছিল। দ্বিতীয়বার রেস শুরুর পর থেকেই তিনি জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন এবং জর্জ রাসেলের চ্যালেঞ্জ সামলে শেষ পর্যন্ত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন। তার এই জয় ইতালিয়ান মোটরস্পোর্টস প্রেমীদের জন্য এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

পয়েন্ট তালিকার অন্যান্যদের মধ্যে ল্যান্ডো নরিস ও অস্কার পিয়াস্ট্রির পেছনে থেকে ষষ্ঠ স্থানে রেস শেষ করেন লুইস হ্যামিল্টন। এছাড়া পিয়েরে গ্যাসলি সপ্তম, আরভিদ লিন্ডব্লাড অষ্টম, ফ্রাঙ্কো কোলাপিন্টো নবম এবং ইউকি সোনোদা দশম স্থান অর্জন করেন। জর্জ রাসেল পরাজয় মেনে নিয়ে সতীর্থ আন্তোনেলির এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

০%
০%
০%
০%