জার্মান বিশ্বকাপজয়ী তারকা মেসুত ওজিলের আকস্মিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফর: মেডিকেল সেন্টার উদ্বোধন

২০১৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপজয়ী জার্মান ফুটবলার মেসুত ওজিল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অত্যন্ত নিভৃতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে এসেছেন। তার এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. মর্তুজা মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন ও সংস্কারকাজের উদ্বোধন। তুরস্কের দাতব্য সংস্থা তুর্কি কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সি (টিকা)-র অর্থায়নে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে এই সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ওজিলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ছেলে নেজমেদ্দিন বিলাল এরদোয়ান, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিজ সেন, ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানসহ অন্যান্যরা। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ওজিলের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়। শত শত শিক্ষার্থী মেডিকেল সেন্টারের সামনে ভিড় জমান, ফোন তুলে ছবি তোলেন এবং তার নামে স্লোগান দেন। তবে নিরাপত্তার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার খুব কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পাননি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-র ভিপি আবু সাদিক কায়েম ও ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন অতিথিদের স্বাগত জানান এবং তাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। সাদিক কায়েম জানান, মেসুত ওজিল ও বিলাল এরদোয়ান বাংলাদেশ সম্পর্কে যথেষ্ট পড়াশোনা করে এসেছেন। বিশেষ করে গত জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বিপ্লব এবং রংপুরের শহীদ আবু সাঈদের ঘটনা নিয়ে ওজিল স্বপ্রণোদিত হয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন—যা উপস্থিত ছাত্রনেতাদের বিস্মিত করেছে। ওজিল বাংলাদেশের ফুটবলের প্রতি ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দেশের বিপুল ফুটবল সমর্থক গোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করে ফুটবল উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ভবিষ্যতে বাফুফের সঙ্গে যোগাযোগ করে যৌথভাবে কাজ করার আশাবাদও ব্যক্ত করা হয়।
ডাকসুর পক্ষ থেকে ওজিলকে স্মারক উপহার এবং গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী চিত্র দেওয়া হয়।
জানা গেছে, ওজিল আগামীকাল বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে যাবেন। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে ফুটবল খেলবেন, ক্যাম্পের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা পরিদর্শন করবেন এবং রমজানের প্রথম ইফতার মাহফিলে অংশ নেবেন। এরপর তিনি দেশ ত্যাগ করবেন।
ওজিলের এই সফর মূলত মানবিক ও দাতব্য উদ্দেশ্যে। তুরস্কের সহায়তায় বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণের লক্ষ্যে তার এই আগমনকে অনেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ক্যাম্পাসে তার উপস্থিতি ফুটবলপ্রেমী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
