Advertisement

অস্ট্রেলিয়ায় দুই দিনের শ্বাসরুদ্ধকর টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস ও স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের রেকর্ডময় ইতিহাস

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই দিনের মধ্যেই শেষ হওয়া টেস্ট ম্যাচের তালিকায় যুক্ত হলো আরও একটি নতুন অধ্যায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় এমন দুই দিনের টেস্ট ম্যাচের সংখ্যা চারটি। সদ্য সমাপ্ত এই টেস্টে মোট বল খেলা হয়েছে মাত্র ৭৫০টি, যা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হওয়া টেস্টগুলোর মধ্যে বলের হিসেবে দ্বিতীয় সংক্ষিপ্ততম। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ১৯৩১-৩২ মৌসুমে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ৬৫৬ বলের টেস্টটি। বিশ্ব ক্রিকেটের সামগ্রিক ইতিহাসে এটি চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম টেস্ট ম্যাচ। প্রসঙ্গত, ৬৪২ বলের হিসেবে কেপটাউনে ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের মধ্যকার টেস্টটি তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে।

এই ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল বেশ হতাশাজনক। তারা দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৬৪ ও ৯৫ রান সংগ্রহ করে। ১৯৬০ সালের পর থেকে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি চতুর্থ ঘটনা, যেখানে কোনো দল দুই ইনিংসেই একশো রানের নিচে অলআউট হয়েছে। এর আগে ১৯৮৪ সালে ইংল্যান্ড, ২০০২ সালে পাকিস্তান এবং ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ে এই তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল। এই টেস্টে বাংলাদেশের মোট ১৫৯ রানের সংগ্রহ তাদের টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১৮ সালে নর্থ সাউন্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৮৭ রান ছিল তাদের সর্বনিম্ন ম্যাচ এগ্রিগেট।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচে মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিং পারফরম্যান্স ছিল এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। টেস্টের প্রথম বলেই উইকেট শিকারের ক্ষেত্রে তিনি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন। টেস্টের প্রথম বলে এটি তার চতুর্থ উইকেট শিকার, যা এই তালিকায় পেদ্রো কলিন্সকে ছাড়িয়ে গেছে। সব মিলিয়ে ৪৩ ইনিংসে টেস্টের প্রথম ওভারে স্টার্ক মোট নয়টি উইকেট নিয়েছেন, যা জেমস অ্যান্ডারসনের ৮৫ ইনিংসে আট উইকেটের রেকর্ডকেও অতিক্রম করেছে। এছাড়া প্রথম ইনিংসে মাত্র ২২ বলে পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন তিনি, যা টেস্ট ইতিহাসের ষষ্ঠ দ্রুততম পাঁচ উইকেট প্রাপ্তির রেকর্ড। সব ফরম্যাট মিলিয়ে এটি তার চতুর্থ দশ উইকেট পাওয়ার ঘটনা, যা বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে ওয়াসিম আকরামের পাঁচটির পরেই অবস্থান করছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের বোলার শরিফুল ইসলাম এই ম্যাচে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। তার ৭/৪৮ বোলিং ফিগার বাংলাদেশের কোনো বোলারের পক্ষে টেস্টে তৃতীয় সেরা এবং কোনো পেসার হিসেবে সেরা। এর আগে ২০০৮ সালে মিরপুরে শাহাদাত হোসেনের ৬/২৭ ছিল বাংলাদেশের কোনো পেসারের সেরা বোলিং ফিগার। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে ডব্লিউএসিএ মাঠে কার্টলি অ্যামব্রোসের ৭/২৫-এর পর শরিফুলের এই পারফরম্যান্স অস্ট্রেলিয়ায় কোনো সফরকারী পেসারের সেরা সাফল্য হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া এই টেস্টের প্রথম দিনেই মিচেল স্টার্ক ও শরিফুল ইসলামের ছয় উইকেট করে শিকার করার ঘটনা টেস্ট ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ নজির। এর আগে ১৯০২, ১৯০৭ ও ১৯৫১ সালে এমন বিরল ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল ক্রিকেট বিশ্ব।

অস্ট্রেলিয়া এই ম্যাচে ২১০ রান সংগ্রহ করেও ইনিংস জয় পেয়েছে, যা তাদের ইতিহাসের চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর থেকে ইনিংস জয়ের ঘটনা। এর আগে ১৯৪৬ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯৯/৮ ডিক্লেয়ারড ইনিংস থেকে জয় পেয়েছিল তারা। বলের হিসেবে স্টার্কের দশ উইকেট শিকারের স্ট্রাইক রেট ছিল ১২ বল প্রতি উইকেট, যা ৪৯০টি দশ উইকেট প্রাপ্তির তালিকার মধ্যে চতুর্থ সেরা এবং ১৯১৩ সালের পর এটাই সর্বোচ্চ দক্ষতা।

0%
0%
0%
0%