ব্যাংককের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তৌসিফ মাহবুব নতুন কাজ ও ক্যারিয়ারের ভাবনা নিয়ে মুখ খুললেন প্রথম আলোর পাতায়

থাইল্যান্ডের মনোরম পরিবেশে কাজের ব্যস্ততার মাঝেও নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হতে ভোলেননি জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। ব্যাংককের একটি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফাঁকেই খোলামেলা আড্ডায় মেতেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নানা উত্থান-পতন, সহকর্মী তাসনিয়া ফারিণের সঙ্গে রসায়ন, কাজের বাছাই প্রক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত জীবনের দর্শন নিয়ে উঠে এল চমকপ্রদ সব তথ্য।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ফারিণের সঙ্গে তোলা ছবি প্রসঙ্গে তৌসিফ জানান, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে চিকিৎসার উদ্দেশ্যেই থাইল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছিলেন তাঁরা। হাসপাতালের পরিবেশ থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে এবং ক্লান্তি দূর করতে দুজনে কিছুটা সময় কাটিয়েছেন। বর্তমান সময়ের ব্যস্ত অভিনেত্রী ফারিণের সঙ্গে ‘চক্র’ ওয়েব সিরিজের পর আবারও পর্দায় ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনিও। ফারিণের অভিনয় দক্ষতা ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে তৌসিফের কণ্ঠে ছিল ভূয়সী প্রশংসা।
নিজের কাজের ধারার পরিবর্তন নিয়ে তৌসিফ বলেন, এখন সংখ্যার চেয়ে কাজের মানকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতায় বুঝেছেন, দর্শক খুব সহজেই শিল্পীর মনোযোগ ও দায়বদ্ধতা টের পান। তাই আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি সচেতনভাবে স্ক্রিপ্ট বাছাই করছেন তিনি। এমনকি ১৩ বছরের এই পথচলায় প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাজ করতে না পারার আক্ষেপ আজও তাকে তাড়া করে ফেরে।
সমসাময়িক শিল্পীদের সঙ্গে কাজের ধরন বা সময়ের তুলনা নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ এই অভিনেতা। তার মতে, প্রত্যেক শিল্পীর কাজের নিজস্ব গতি ও প্রস্তুতি থাকে। অন্যের কাজের মানদণ্ড দিয়ে নিজেকে বিচার না করে নিজের কাজে শতভাগ সততা বজায় রাখাই তার মূল লক্ষ্য। পরবর্তী প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের নিয়েও তিনি বেশ আশাবাদী। শিল্পীদের নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ ও নিজস্ব জায়গা তৈরির জন্য সময়ের প্রয়োজন, আর সেই ধৈর্য অনেকের মধ্যেই আছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোই তাকে কাজের মানসিক চাপ থেকে বের করে আনে। ব্যস্ততার মাঝেও সংসারের ছোটখাটো কাজগুলো তিনি বেশ উপভোগ করেন। বছরের শুরুতে ‘ভুলের সংখ্যা কমানোর’ যে পণ তিনি করেছিলেন, তা নিয়ে বলেন, বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে তিনি এখন যেকোনো সিদ্ধান্তের আগে বারবার ভাবেন। একই ভুল বারবার না করার চেষ্টাটাই তার কাছে বড় সাফল্য।
পরিশেষে নিজের ক্যারিয়ারের আইকনিক চরিত্র ‘নেহাল’ নিয়ে তৌসিফ বলেন, কোনো নির্দিষ্ট চরিত্রের মধ্যে আটকে যাওয়াকে তিনি সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখেন না। বরং একটি চরিত্রকে দর্শকের মনে চিরস্থায়ী করে রাখতে পারা একজন অভিনেতার জন্য বড় প্রাপ্তি। বাণিজ্যিকভাবে নিরাপদ না হলেও চ্যালেঞ্জিং ও গভীর কোনো চরিত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি, যা দর্শককে ভাবনার খোরাক জোগাবে।
