অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে ক্ষোভের মুখে সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বস্ত করলেন বঞ্চিতদের

বাংলার রাজনীতি এবং বিনোদন জগতের আলোকবৃত্তে এখন আলোচনার কেন্দ্রে জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দলবদল—সব মিলিয়ে তারকা এই নেত্রীকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে জোর চর্চা। বিশেষ করে প্রকল্পের তিন হাজার টাকা না পাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের হাহাকার এবং প্রতিবাদ যখন তুঙ্গে, তখন ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এলেন খোদ রচনা।
সম্প্রতি এক জনসভায় উপস্থিত হয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে আশ্বস্ত করেছেন যে, প্রকল্পের যোগ্য উপভোক্তারা কেউই খালি হাতে ফিরবেন না। যারা তালিকাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও টাকা পাননি, তাদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন অভিনেত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তালিকাভুক্ত হওয়ার পরেও যারা বঞ্চিত হচ্ছেন, তারা যেন সরাসরি তাঁর সাংসদ কার্যালয়ে নাম ও ঠিকানা জমা দেন। যোগ্য ব্যক্তিদের প্রাপ্যের পাওনা নিশ্চিত করতে তিনি সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবেন বলেও জোর গলায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তবে অভিনয়ের জগৎ থেকে রাজনীতির ময়দানে আসা রচনার সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনাও কম হচ্ছে না। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি এলাকা উন্নয়নের কথা বললেও, নেটিজেনদের একাংশ বিষয়টি নিয়ে ট্রোল করতে ছাড়ছেন না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাতঃরাশের পর তাঁর এই রাজনৈতিক ডিগবাজি সাধারণ মানুষের কাছে খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি, যার ফলে তাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে তীব্র কটাক্ষ।
অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের জটিলতা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছায়নি, যা নিয়ে ক্ষোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়েছেন, প্রকৃত হকদারদের ভাতার ব্যবস্থা করতে সরকার আরও উদ্যোগী হবে এবং প্রয়োজনে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে ক্লেম অপশন কাজে লাগিয়ে বকেয়া টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে বিক্ষোভ বা আন্দোলনের কাছে নতি স্বীকার না করার বিষয়েও সরকারের অবস্থান এখন বেশ অনড়। সব মিলিয়ে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এবং রচনার রাজনৈতিক অবস্থান—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে রাজ্য রাজনীতিতে এখন রীতিমতো উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে।
