সাই সুদর্শনের চোটে টেস্ট দলে ডাক পেলেন দেবদূত পাডিক্কাল তিন নম্বরের জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভারত

সাই সুদর্শন পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে না পারায় ভারতের টেস্ট দলে তিন নম্বর পজিশনটি এখন দেবদূত পাডিক্কালের জন্য উন্মুক্ত। আসন্ন সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে নেট সেশনে পাডিক্কালকে দেখা গেছে দারুণ মনোযোগী। নেটে অফ-স্পিনার সারাংশ জৈনের বিপক্ষে তার সুইপ শট এবং লম্বা রিচ ব্যবহার করে বল খেলার কৌশল ছিল বেশ নজরকাড়া। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট একাদশের বিপক্ষে কলম্বোতে ১৬৪ বলে ১৪২ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন তিনি। সেই ম্যাচের দিনই সুদর্শনকে সিরিজ থেকে ছিটকে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে, আর পাডিক্কাল হয়ে ওঠেন দলের মূল ভরসা। ম্যাচ শুরুর দুই দিন আগে বৃহস্পতিবার অধিনায়ক শুভমান গিলের সাথে ব্যাটিং অনুশীলনের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে শট লেগে ক্যাচিং অনুশীলনেও দেখা গেছে তাকে।
অধিনায়ক শুভমান গিল জানিয়েছেন, সুদর্শনের ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল এবং বারবার স্ক্যান করার পরও প্রত্যাশিত উন্নতি না হওয়ায় ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের পর থেকে তিন নম্বর পজিশনটি নিয়ে ভারতকে বেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হচ্ছে। চেতেশ্বর পূজারার পরবর্তী সময়ে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির অবসরের পর এই পজিশনে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাটারকে দীর্ঘমেয়াদে দেখা যাচ্ছে না। গিল ও গম্ভীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই পজিশনে কৌশলগত কারণে বারবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। কখনো সাই সুদর্শন, কখনো করুণ নায়ার আবার কখনো ওয়াশিংটন সুন্দরকে খেলিয়ে দলের সমন্বয়ে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেছেন তারা।
ক্রিকেট ইতিহাসে রাহুল দ্রাবিড় বা চেতেশ্বর পূজারার মতো কিংবদন্তিরা তিন নম্বর পজিশনে দীর্ঘ সময় রাজত্ব করেছেন। পূজারা ১৩ বছরে ১৫৫ ইনিংস খেলে ৬৫২৯ রান করে নিজেকে এই পজিশনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। বর্তমানে ভারতের টপ অর্ডারের বাকি তিন ব্যাটার কেএল রাহুল, যশস্বী জয়সওয়াল ও শুভমান গিলের জায়গা নিশ্চিত হলেও, তিন নম্বর পজিশনটি রয়ে গেছে অনিশ্চয়তার দোলাচলে। পারফর্ম না করলেই বাদ পড়ার এই নীতি কি তরুণ ব্যাটারদের বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
আগামী দুই সপ্তাহ শ্রীলঙ্কায় পাডিক্কাল হয়তো থিতু হওয়ার সুযোগ পাবেন, কিন্তু এরপর কী হবে? নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে সুদর্শন ফিরে আসলে বা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে কী হবে, তা নিয়ে ভারতের কোনো চূড়ান্ত পরিকল্পনা এখনো স্পষ্ট নয়। বর্তমানের এই অস্থিরতা থেকে বেরিয়ে এসে ভারত কবে নাগাদ তিন নম্বর পজিশনে একজন স্থায়ী ব্যাটার খুঁজে পাবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
