রহমত ও আটালের ব্যাটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের রেকর্ড রান তাড়া করে জয়

আয়ারল্যান্ডের ছুঁড়ে দেওয়া বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রড়পর্দায় শ্বাসরুদ্ধকর জয় তুলে নিয়েছে আফগানিস্তান। ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে ৬ উইকেটের ব্যবধানে জয় পেয়েছে সফরকারীরা। দলীয় ৩০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৮.৫ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আফগানরা।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। বল হাতে শুরুটা দুর্দান্ত করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। সপ্তম ওভারে অ্যান্ডি বলবার্নি ও পল স্টার্লিংকে ফিরিয়ে আইরিশদের চাপে ফেলেন তিনি। এরপর এ এম গজানফরের জোড়া আঘাতে কোণঠাসা হয়ে পড়া স্বাগতিকদের হাল ধরেন হ্যারি টেক্টর ও কার্টিস ক্যাম্পার। টেক্টর ৫৩ রান করে আউট হলেও শেষদিকে ক্যাম্পারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৯৮ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি গড়ে আয়ারল্যান্ড। ক্যাম্পার ৯৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন এবং শেষ ১০ ওভারে স্বাগতিকরা ১০১ রান সংগ্রহ করে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে আয়ারল্যান্ডের পেসার লিয়াম ম্যাককার্থির তোপে শুরুতেই দুই উইকেট হারায় আফগানিস্তান। চতুর্থ ওভারে ইব্রাহিম জাদরান ও পঞ্চম ওভারে রহমানউল্লাহ গুরবাজ সাজঘরে ফিরলে পাওয়ারপ্লেতে মাত্র ৩০ রান তুলতে পারে সফরকারীরা। তবে এরপরই দৃশ্যপটে রহমত শাহ ও সেদিকউল্লাহ আতাল। শুরু থেকেই ধৈর্যশীল ব্যাটিং করে রানের চাকা সচল রাখেন এই দুই ব্যাটার। ১৩তম ওভারেই প্রয়োজনীয় রান রেট ৭ ছাড়িয়ে গেলেও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি তারা।
১৬তম ওভারে গাভিন হোয়ির বলে রহমতের ছক্কা ও আতালের বাউন্ডারিতে আক্রমণের সূচনা করে আফগানিস্তান। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে উইকেটে থিতু হয়ে আয়ারল্যান্ডের বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরান দুজন। ৪০তম ওভারের মধ্যে তাদের জুটির সংগ্রহ ২০০ রান স্পর্শ করে। সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় থাকা আতালকে আউট করে লিয়াম ম্যাককার্থি জুটি ভাঙলে কিছুটা স্বস্তি ফেরে আইরিশ শিবিরে। কেড কারমাইকেলের দারুণ ক্যাচে আতাল ৯৮ রানে বিদায় নিলেও অবিচল ছিলেন রহমত। ৪২তম ওভারে পাঁচ বছরের বেশি সময় পর ওয়ানডেতে নিজের শতক পূর্ণ করেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
শেষদিকে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ১৪ বলে ২৪ রানের ক্যামিও ইনিংসে রহমতের সাথে ৫৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে জয়ের পথ প্রশস্ত হয় আফগানিস্তানের। ৪৯তম ওভারে অধিনায়ক রহমত শাহ বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। অপরাজিত ১৪৩ রান করে ম্যাচ সেরার পাশাপাশি জয়ের নায়ক তিনিই। আইরিশ বোলারদের মধ্যে লিয়াম ম্যাককার্থি ৩টি উইকেট নিলেও তা দলের জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
