বাংলাদেশি পেসারদের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ টেট স্বপ্ন দেখছেন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ দলের পেসারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স মন জয় করেছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। দলের ফাস্ট বোলিং ইউনিটের এই উত্তরণে অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত সাবেক পেস বোলিং কোচ শন টেইট। দলের নিয়মিত পেসার নাহিদ রানা না থাকা সত্ত্বেও বাকি বোলাররা যেভাবে নিজেদের মেলে ধরেছেন, তা টাইগারদের গভীরতা এবং সক্ষমতারই প্রমাণ দেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের পেসাররা বর্তমানে তিনটি ফরম্যাটেই খেলার মতো যথেষ্ট বৈচিত্র্যময় এবং দক্ষ। টেইটের মতে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান শক্তির জায়গা হলো তাদের এই ফাস্ট বোলিং ইউনিট। অতীতে দলটি স্পিন নির্ভর থাকলেও এখন পেসাররাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে। ঘরের মাঠে পেস সহায়ক উইকেট তৈরির মাধ্যমে তারা যে সাফল্যের পথ তৈরি করেছে, তা বিদেশের মাটিতেও দৃশ্যমান।
হাসান মাহমুদের সাম্প্রতিক ফর্ম এবং মানসিকতার প্রশংসা করে টেইট বলেন, চোট কাটিয়ে ফেরার পর হাসান যেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন, তা প্রশংসনীয়। কেন্টের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। হাসানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার ধৈর্য এবং সুশৃঙ্খল বোলিং। টেস্ট ক্রিকেটে লাইন ও লেংথ বজায় রেখে ‘বোরিং’ বা একঘেয়ে বল করার যে শিল্প, হাসান তা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পালন করছেন। তার শান্ত স্বভাব এবং ক্রিকেটীয় বুদ্ধি তাকে অন্য পেসারদের থেকে আলাদা করেছে।
পেসারদের বোলিং লেন্থ নিয়ে টেইট আরও জানান, অতীতে বাংলাদেশের পেসাররা বিদেশের কন্ডিশনে শর্ট বল করার প্রবণতা দেখাতেন। তবে এখন তারা যে ফুলার লেন্থে বল করছেন, তা বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন। শুধু বিদেশের মাটিতে নয়, বরং উপমহাদেশের পিচেও বল পিচ আপ করা যে সঠিক কৌশল, তা এখন টাইগার পেসাররা বুঝতে শিখেছেন।
কোচিং স্টাফের ভূমিকার চেয়ে খেলোয়াড়দের নিজেদের দায়িত্ববোধের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন টেইট। তিনি মনে করেন, নাহিদ রানা থেকে শুরু করে হাসান মাহমুদ—প্রত্যেকেই তাদের শক্তির জায়গা সম্পর্কে অবগত এবং সরল কৌশলে বল করার সুফল পাচ্ছেন। বাংলাদেশ দলের এই পেস আক্রমণ আগামী কয়েক বছর বিশ্ব ক্রিকেটে দাপট দেখাবে বলেই প্রত্যাশা তার। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে পরামর্শক হিসেবে কাজ করার আগ্রহ থাকলেও, পারিবারিক কারণে আপাতত পূর্ণকালীন দায়িত্বের বিষয়টি অনিশ্চিত রেখেছেন এই সাবেক কোচ।
