নেটফ্লিক্সে মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই শীর্ষে দ্য লাস্ট হাউস

নেটফ্লিক্সের পর্দায় ঝড় তুলে বিনোদন বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছে নতুন থ্রিলার সিনেমা ‘দ্য লাস্ট হাউস’। মুক্তির প্রথম তিন দিনেই দুই কোটি ৭৫ লাখ ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করে সিনেমাটি নেটফ্লিক্সের দর্শকপ্রিয়তার তালিকার শীর্ষে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছে। আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে শুধু ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র নয়, নেটফ্লিক্সের সকল কনটেন্টকে পেছনে ফেলে এটি পরিণত হয়েছে দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে।
গল্পের প্রেক্ষাপট এক অদ্ভুত রহস্যময় আবহে ঘেরা। অবিরাম বৃষ্টির দিনে একটি বাড়ি, যেখানে না আছে বাইরের জগতের কোনো যোগাযোগ, না আছে ফোন বা ইন্টারনেটের সুবিধা। চারজন মানুষ যেন পুরো পৃথিবী থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে এক অদৃশ্য খাঁচায় বন্দি। কোনো অতিপ্রাকৃত শক্তি নয়, বরং বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ হারিয়ে ফেলার এই চরম অসহায়ত্বই সিনেমাটির মূল ভয়ের উৎস। সাতই আগস্ট মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে এই অস্বস্তিকর পরিবেশ আর রহস্য নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
সিনেমাটিকে কেবল হরর ঘরানার গণ্ডিতে আটকে রাখা কঠিন। নেটফ্লিক্স একে সায়েন্স ফিকশন, হরর ও থ্রিলারের এক চমৎকার সংমিশ্রণ হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে গল্পের মূল গভীরতা নিহিত রয়েছে পরিবারের ভেতরের আবেগীয় জটিলতা আর মানসিক লড়াইয়ের ওপর। ক্ষুধা, অনিশ্চয়তা আর বন্দিদশার চাপে পড়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ও সন্তানদের নিরাপত্তা রক্ষার কঠিন বাস্তবতা এখানে সূক্ষ্মভাবে ফুটে উঠেছে। বাড়িটি শেষ পর্যন্ত একটি আশ্রয়ের বদলে মানুষের মানসিক বন্দিশালায় পরিণত হয়।
অভিনয়শিল্পীদের ক্যারিশমায় সিনেমাটি পেয়েছে অন্য মাত্রা। ‘পাস্ট লাইভস’ খ্যাত অভিনেত্রী গ্রেটা লি রাইলি চরিত্রে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। মায়ের মমতা আর পরিস্থিতির ভয়াবহতা সামলানোর কঠিন লড়াই তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন কেবল মুখের অভিব্যক্তি আর নীরবতার আশ্রয়ে। অন্যদিকে ‘নার্কোস’ সিরিজের জনপ্রিয় তারকা ওয়াগনার মৌরা জেসন চরিত্রে একজন বাবার অসহায়ত্ব ও বাস্তবতার সঙ্গে তার নিরন্তর লড়াইকে নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করেছেন।
‘দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক’ বা ‘ফাস্ট এক্স’-এর মতো ব্লকবাস্টার অ্যাকশন সিনেমার নির্মাতা লুই লেতেরিয়ের এই ছবিতে নিজেকে ভেঙেছেন নতুন করে। বিশাল ক্যানভাসের বদলে একটি বাড়ির চার দেয়ালের মধ্যে গল্পকে সীমাবদ্ধ রেখে তিনি তৈরি করেছেন থ্রিলারের এক নতুন স্বাদ।
তবে বক্স অফিসে সাফল্য পেলেও সমালোচকদের একাংশ চিত্রনাট্যের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকের মতে, প্রথমার্ধের টানটান উত্তেজনা ও রহস্যের গভীরতা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি ছবিটি। রহস্যের জট খোলার প্রক্রিয়ায় ঘাটতি থাকায় গল্পের শেষাংশ দর্শকদের মনে কিছুটা অতৃপ্তি তৈরি করেছে। তা সত্ত্বেও অভিনয় আর অদ্ভুত এক পরিবেশের টানে ‘দ্য লাস্ট হাউস’ বর্তমানে নেটফ্লিক্সের দর্শকদের আলোচনার টেবিলে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
