বাইলেটারাল সিরিজের অনিয়ন্ত্রিত সূচি বন্ধের ডাক আইসিসির, ওয়ানডে ও টেস্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বার্তা সঞ্জোগ গুপ্তার

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জোগ গুপ্তা জানিয়েছেন, ক্রিকেটের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে অনিয়মিতভাবে আয়োজিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজের দিন শেষ করতে হবে। খেলার মানোন্নয়ন এবং বিশ্বব্যাপী এর প্রসারের ওপর জোর দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, যথাযথ প্রেক্ষাপট, সংস্কৃতি, প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো দেশই ক্রিকেটকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে পারবে না। এর জন্য আর্থিক ও অন্যান্য সম্পদের গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
ওয়ানডে ফরম্যাটের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান উদ্বেগের মাঝে এই মন্তব্য করলেন সঞ্জোগ গুপ্তা। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আগামী বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট নিয়ে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেট বোর্ডসহ অনেক অ্যাসোসিয়েট সদস্য দেশের খেলোয়াড়রা সমালোচনা করার পরপরই তিনি এই বার্তা দিলেন। গুপ্তার মতে, ওয়ানডে ফরম্যাট কেবল টিকে থাকবে না, বরং সঠিক পরিকল্পনায় তা বিকশিত হতে পারে। পুরুষ ও নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের সাথে এই ফরম্যাটটি গভীরভাবে যুক্ত থাকায় এটিকে পণ্য তালিকায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
টেস্ট ক্রিকেটের ক্ষেত্রে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, যদি ঐতিহ্য ও মর্যাদা বজায় রেখে সেটিকে প্রাসঙ্গিক করে তোলা না যায়, তবে এই ফরম্যাট একসময় বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশ্বজুড়ে মানুষের মনোযোগ যখন ভিন্নমুখী হচ্ছে, তখন স্থিতাবস্থা বজায় রাখলে ক্রিকেটের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। তাই লক্ষ্য হতে হবে কেবল প্রবৃদ্ধি। যদিও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটকে নতুন নতুন বাজারে ক্রিকেটের বিস্তারের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তবে টেস্ট ক্রিকেটের অর্থনৈতিক দিকটিকে উপেক্ষা করা যাবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সঞ্জোগ গুপ্তা আরও জানান, টেস্ট ক্রিকেটের বাণিজ্যিক দিক নিয়ে আলোচনার সময় আবেগ ও ঐতিহ্য অনেক ক্ষেত্রে প্রাধান্য পায়। কিন্তু এর সমাধান কেবল টেস্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সব ফরম্যাট ও ইভেন্টের ক্ষেত্রেই এই প্রশ্ন উত্থাপন করা প্রয়োজন। সাত বছর আগেও যে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের কোনো অস্তিত্ব ছিল না, সেটি বর্তমানে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ইভেন্টে পরিণত হয়েছে।
ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অন্য দেশগুলোতে টেস্ট ক্রিকেটকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। গুপ্তার মতে, প্রতিটি সদস্য দেশের উচিত টেস্ট ক্রিকেটকে ঘিরে এমন পরিবেশ ও আয়োজন তৈরি করা, যা দর্শকদের কাছে বাড়তি গুরুত্ব পায়। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ধারাবাহিকতা, সঠিক সময়সূচী, যথাযথ প্রচার, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ এবং দুই দলের খেলার মানের সমন্বয় ঘটালে টেস্ট ক্রিকেট আবারও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
