ডারউইনে হাসান মাহমুদের ছয় উইকেটের বিধ্বংসী স্পেলে কোণঠাসা অস্ট্রেলিয়া

ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার যেন এক রূপকথার মঞ্চ তৈরি করেছিলেন হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম দিনেই ক্যারিয়ার সেরা ৬ উইকেট শিকার করে স্বাগতিকদের মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছেন এই ডানহাতি পেসার। এটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স এবং টেস্ট ক্রিকেটে অজিদের বিপক্ষে তাদের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। পাকিস্তান সিরিজের রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের পর এই নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো কোনো টেস্ট ইনিংসে প্রতিপক্ষের সবকটি উইকেট নিজেদের পেসারদের ঝুলিতে পুরল বাংলাদেশ।
হাসানের বোলিংয়ের মূলমন্ত্র হলো সরলতা। সহজাত আগ্রাসন বা মাঠের বাইরের নাটকীয়তার চেয়ে তিনি নিজের লাইন ও লেংথের ওপরই বেশি ভরসা রাখেন। এদিন তার বোলিংয়ে ছিল দারুণ বৈচিত্র্য—৯ দশমিক ৯ শতাংশ ডেলিভারি ছিল ফুল লেংথে, ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ গুড লেংথে, ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ হার্ড ব্যাক-অফ-লেংথে এবং ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল শর্ট ডেলিভারি। মাঠের পারফরম্যান্সেও তিনি কতটা নিভৃতচারী, তা তার সেলিব্রেশনে স্পষ্ট। সতীর্থদের জড়িয়ে ধরার আগে আকাশের দিকে তাকিয়ে কৃতজ্ঞতা জানানোই তার চিরচেনা রীতি। তবে ডারউইনের গ্যালারিতে এদিন সেই দৃশ্য ছিল দেখার মতো, স্বপ্নময় স্পেল শেষ করার পর তিনি মাঠের পিচটি চুম্বন করে নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
তার এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা। প্রাক্তন জাতীয় স্পিনার এনামুল হক জানিয়েছেন, কাউন্টি সার্কিটে কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটারের এমন কদর আগে দেখা যায়নি। এই অভিজ্ঞতা হাসানকে কন্ডিশন বুঝতে সাহায্য করেছে, যা তিনি ডারউইনে কাজে লাগিয়েছেন। যদিও বিপিএলের সময় টেনিস এলবো ইনজুরির কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজে খেলতে পারেননি, তবে সেই সময়টাই তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ইনজুরি থেকে ফিরে খেলার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় তিনি ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান এবং কেন্টের প্রধান কোচ অ্যাডাম হোলিওকের নজর কাড়েন।
ম্যাচ শেষে স্টিভেন স্মিথের উইকেটটিকে বিশেষ উল্লেখ করে হাসান জানান, স্মিথ বাউন্সারটি ঠিকমতো পড়তে পারেননি। এছাড়া মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স এবং জশ হ্যাজলউডের মতো বোলারদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা তার কাছে দারুণ এক প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। এর আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে চার উইকেট নিয়ে নিজের ফর্মের জানান দিয়েছিলেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে নাহিদ রানাকে নিয়ে আলোচনা চললেও হাসান মাহমুদ তার স্বভাবসুলভ শান্ত ভঙ্গিতেই নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। শাকিব আল হাসান গত সপ্তাহেই তাকে বাংলাদেশের টেস্ট দলের সেরা পেসার হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, যা ডারউইনের পারফরম্যান্সে সগর্বে প্রমাণিত হলো। মাঠের ক্রিকেটে হোক বা মাঠের বাইরে, অট্টহাসি বা উত্তাপের বদলে কেবলই বিনয় ও আত্মবিশ্বাস—এভাবেই নিজের বোলিং শৈলীতে মুগ্ধতা ছড়িয়ে চলেছেন হাসান মাহমুদ।
