লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অস্ত্র সহায়তার অভিযোগে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা

লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন লেবানিজ-আমেরিকান নাগরিকরা। মিশিগানের একটি ফেডারেল আদালতে মঙ্গলবার দায়ের করা এক সম্মিলিত মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইসরায়েলকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন নিজেদের দেশের প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করছে। এই আইনি লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য হলো লেবাননে ধ্বংসযজ্ঞ ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী পক্ষগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
মামলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-কে বিবাদী করা হয়েছে। পাশাপাশি লকহিড মার্টিন, বোয়িং এবং ক্যাটারপিলারের মতো প্রভাবশালী প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। বাদীদের দাবি, লেহী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটিয়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলো এমন সব মারণাস্ত্র ও প্রযুক্তি সরবরাহ করছে, যা ইসরায়েলি বাহিনী বেসামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে ব্যবহার করছে।
মিশিগানভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘আরব আমেরিকান সিভিল রাইটস লিগ’ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ জন নাগরিক যৌথভাবে এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। বাদীদের মধ্যে অন্যতম বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ নাসের বেইদুন অভিযোগ করেছেন, দক্ষিণ লেবাননের বিনত জুবাইল এলাকায় কোনো সামরিক যৌক্তিকতা ছাড়াই ইসরায়েলি বাহিনী তার পৈতৃক নিবাস ধ্বংস করেছে। মূলত লেবাননে সম্পত্তির মালিক এমন হাজার হাজার লেবানিজ-আমেরিকান নাগরিকের পক্ষে এই মামলাটিকে একটি শ্রেণিবদ্ধ বা ক্লাস অ্যাকশন মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির প্রধান আইনজীবী নবিহ আয়াদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সারা বিশ্বে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে মার্কিন আইন কার্যকর থাকলেও ইসরায়েলের বেলায় তা সম্পূর্ণ অকার্যকর। লেবাননে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকার পরও মার্কিন প্রশাসনের নীরবতা হতাশাজনক। মামলার নথিতে গত জুন মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গও টানা হয়েছে, যেখানে তিনি ইসরায়েলের নির্বিচার শক্তি প্রয়োগের সমালোচনা করেছিলেন।
উল্লেখ্য যে, আরব আমেরিকান সিভিল রাইটস লিগ অতীতেও একাধিক জনগুরুত্বপূর্ণ মামলায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করা এবং গাজায় আটকে পড়া মার্কিনিদের উদ্ধারের দাবিতে দায়ের করা মামলা অন্যতম। বর্তমান আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তারা লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও নৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
