হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাপুটে প্রথম দিন বাংলাদেশের

ডারউইনে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকে কোণঠাসা করে রেখেছে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং তোপে স্বাগতিকরা তাদের ইনিংস গুটিয়ে নিয়েছে মাত্র ১৯৮ রানে, যা বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ২১৭ রান। দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ ১ উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান সংগ্রহ করেছে। এখন স্বাগতিকদের চেয়ে ১০২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন শুরু করবে সফরকারীরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকেই চাপে রাখে বাংলাদেশের পেসাররা। হাসান মাহমুদ ৫৫ রান খরচায় ৬ উইকেট শিকার করে অজিদের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন, যারা দুজনেই দুটি করে উইকেট নিজেদের ঝুলিতে পুরেছেন। দলের এই অভাবনীয় সাফল্যের পর হাসান মাহমুদ জানান, তিনি কেবল লাইন ও লেন্থ বজায় রেখে বল করার চেষ্টা করেছেন এবং দলের অধিনায়ক ও সতীর্থদের ওপর আস্থা রেখেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে স্টিভ স্মিথ একাই লড়াই চালিয়ে যান, তিনি সংগ্রহ করেন ৭১ রান। তবে বাকি ব্যাটাররা বাংলাদেশের সুশৃঙ্খল বোলিং আক্রমণের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। স্মিথ স্বীকার করেছেন যে, দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট খেলতে নামায় মানিয়ে নিতে তাদের বেগ পেতে হয়েছে। বল বেশ মুভ করায় ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া কঠিন ছিল। বিশেষ করে হাসানের তোপের মুখে অজিদের টপ অর্ডার দ্রুত সাজঘরে ফিরে যায়। দলীয় ৪৫ রানের মাথায় জিক ওয়েদারল্ডকে ফিরিয়ে হাসান প্রথম সাফল্য পান, এরপর ট্রাভিস হেডকেও বোল্ড করেন তিনি। লাবুশেন, ক্যামেরন গ্রিন এবং অ্যালেক্স ক্যারির মতো ব্যাটাররা ইবাদত ও তাসকিনের নিখুঁত বোলিংয়ের সামনে অসহায় ছিলেন।
দিনের শেষভাগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসী শুরু করে। দলীয় ৩৬ রানের মাথায় শাদমান ইসলাম ২০ রান করে মিচেল স্টার্কের বলে বিদায় নিলেও, ক্রিজে অপরাজিত রয়েছেন মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসান। মুমিনুল ৩৫ এবং তানজিদ ৩২ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। অধিকাংশ ক্রিকেটবোদ্ধারা ধারণা করেছিলেন যে তিন দিনের মধ্যেই এই ম্যাচ শেষ হয়ে যাবে, তবে সফরকারীরা যেভাবে দুর্দান্ত সূচনা করেছে, তা ক্রিকেট বিশ্বে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্বাগতিকদের চাপের মুখে রেখে বাংলাদেশ এখন লড়াইয়ে দারুণ অবস্থানে রয়েছে।
