Advertisement

জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ব্রিটিশ জনগণের উদ্বেগ শুনতে মাঠে নামছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম দেশজুড়ে এক মাসব্যাপী এক বিশেষ সফর শুরু করেছেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট আর্থিক দুর্দশা ও উদ্বেগের কথা সরাসরি শোনা। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে সরাসরি মন্তব্য করেছেন যে, আবাসন, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দামের কথা সরকার জানে, তাই নতুন করে এই সফরের প্রয়োজন নেই।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো যুক্তরাজ্যও বর্তমানে চরম মূল্যস্ফীতির কবলে পড়েছে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বছরের দ্বিতীয়ার্ধে মূল্যস্ফীতি আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় পরিবহন ও পণ্যমূল্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

জুন মাসে যুক্তরাজ্যে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ২.৮ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৩ শতাংশ। যদিও মূল্যবৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর হয়েছে, তবুও সাধারণ মানুষের ওপর এর চাপ অপরিবর্তিত। উদাহরণস্বরূপ, গত বছর জুন মাসে যে পণ্যের দাম ছিল ১০০ পাউন্ড, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২.৮০ পাউন্ডে। র‍্যাক ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ আগস্টের মধ্যে পেট্রোলের দাম ২২ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১.৬১ পাউন্ড এবং ডিজেলের দাম ১.৮১ পাউন্ডে ঠেকেছে।

মূল্যস্ফীতির এই কষাঘাত সব শ্রেণির মানুষের ওপর সমানভাবে পড়ছে না। জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন আয়ের পরিবারের আয়ের একটি বড় অংশই চলে যাচ্ছে আবাসন, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের পেছনে। জোসেফ রাউন্টি্রি ফাউন্ডেশনের গবেষণায় দেখা গেছে, চলতি বছর প্রায় ৭৪ লাখ নিম্ন আয়ের পরিবার তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, যা ২০২১ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ।

বিজ্ঞাপন

জি-সাত ভুক্ত দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাজ্যের বর্তমান অবস্থা মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার সর্বোচ্চ ৩.৫ শতাংশ, এরপরই রয়েছে ইতালি ৩ শতাংশ, কানাডা ২.৮ শতাংশ এবং জার্মানি ২.৩ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে বর্তমানে মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি ব্যয়, হোটেল ও রেস্তোরাঁর বর্ধিত খরচ এবং মজুরি বৃদ্ধির মন্থর গতি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমলেও তা এখনো সহনীয় পর্যায়ে আসেনি। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের আশঙ্কা, উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়ার ফলে বছরের শেষ নাগাদ খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ৪ থেকে ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এর পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের প্রকৃত আয়ের হারও কমেছে, যা সাধারণ মানুষের টিকে থাকার লড়াইকে আরও জটিল করে তুলছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%