AdvertisementAdvertisement

আর্থিক কেলেঙ্কারির মুখে ব্রিটেনের রিফর্ম ইউকে এবং নাইজেল ফারাজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে অভাবনীয় উত্থানের পর সংস্কারপন্থী দল ‘রিফর্ম ইউকে’ বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতা নাইজেল ফারাজ আগামী বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় শহর ক্ল্যাকটন-অন-সি-তে উপ-নির্বাচনে বড় জয়ের অপেক্ষায় থাকলেও, জাতীয় রাজনীতিতে দলের সামগ্রিক জনপ্রিয়তা ক্রমেই নিম্নমুখী। আল জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে নানা বিতর্কের কারণে পপুলিষ্ট এই দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।

জনমত জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ইপসস-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি ২৮ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছে, যেখানে রিফর্ম ইউকের সমর্থন কমে দাঁড়িয়েছে ২৫ শতাংশে। অথচ কিছুদিন আগেও অধিকাংশ জরিপে রিফর্ম ইউকে শীর্ষে ছিল। স্ট্র্যাথক্লাইড বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনী বিশ্লেষক জন কার্টিস মনে করেন, যুক্তরাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত খণ্ডিত, যার ফলে দলটির এই উত্থান ও পতন কোনো পরিচিত রাজনৈতিক ছক মেনে চলছে না।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দলের বর্তমান অস্থিরতার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে নাইজেল ফারাজের আর্থিক লেনদেন নিয়ে ওঠা বিতর্ক। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এপ্রিল মাসে প্রকাশ পায় যে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ধনকুবের ক্রিস্টোফার হারবোর্ন ফারাজকে ব্যক্তিগতভাবে ৫০ লক্ষ পাউন্ড বা প্রায় ৬৭ লক্ষ ডলার উপহার দিয়েছেন। এই সংবাদ প্রকাশের পর দলের অর্থায়ন ও স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এছাড়া কনজারভেটিভ দলের বিদ্রোহী নেতা রবার্ট জেনরিকের নির্বাচনী প্রচারে বিদেশি তহবিল গ্রহণের অভিযোগ এবং নাইজেল ফারাজের সহযোগী জর্জ কট্রেলের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই ফারাজ গত মাসে ক্ল্যাকটনের সংসদীয় আসন থেকে পদত্যাগ করে পুনরায় ভোটের মুখোমুখি হওয়ার ঘোষণা দেন। যদিও অধিকাংশ প্রধান রাজনৈতিক দল এই উপ-নির্বাচন বর্জন করেছে, তবে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন চরম হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ব্যঙ্গাত্মক প্রার্থী ‘কাউন্ট বিনফেস’। রিফর্ম ইউকে বরাবরই এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, রিফর্ম ইউকে ভেবেছিল ভোটাররা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতার চেয়ে ফলাফলকেই বেশি গুরুত্ব দেবে। ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ স্যাম পাওয়ারের মতে, ব্রিটিশ ভোটাররা সাধারণ নিয়মনীতি ভঙ্গের বিষয়ে বরাবরই সংবেদনশীল। অতীতে বরিস জনসন কিংবা কিয়ার স্টারমারের মতো নেতাদের ছোটখাটো বিতর্কও ভোটারদের প্রতিক্রিয়ার কারণে বড় আকার ধারণ করেছিল। রিফর্ম ইউকে সম্ভবত বুঝতে পারেনি যে, সফলতার শিখরে পৌঁছালে প্রচলিত ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর মতোই তাদেরও কঠোর জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে।

ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রব ফোর্ডের মতে, রিফর্ম ইউকের এই সংকটের পেছনে দলের নেতৃত্বের দৈন্যতাও দায়ী। তিনি মনে করেন, নাইজেল ফারাজ এককভাবে দলকে টেনে নিয়ে চললেও দলের বাকি সদস্যরা তেমন দক্ষ নন। তাদের এই অপরিপক্বতাই দলটিকে মূলধারার রাজনৈতিক স্ক্যান্ডালের ঘূর্ণাবর্তে ফেলেছে, যা থেকে উত্তরণ এখন দলটির জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%