শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার ঘোষণা ইরানের

ওয়াশিংটন যতক্ষণ না পর্যন্ত নিজেদের নীতি পরিবর্তন করছে এবং তেহরানের দাবিগুলো মেনে নিচ্ছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির প্রেক্ষিতে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নবনিযুক্ত প্রধান মহসেন রেজাই এই ঘোষণা দেন। মূলত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত শুরুর পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি বন্ধ করে রেখেছে তেহরান।
তেহরানের সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের তথ্যমতে, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই তেহরানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত কং পেইউকে স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটন নিজেদের আচরণ সংশোধন না করা পর্যন্ত এই প্রণালী খোলার কোনো সুযোগ নেই। ইরান তার দাবিগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ ফেরত এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের বিষয়গুলোকে প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। এছাড়া গাজা ও লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বানও জানিয়েছে দেশটি।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই এই নৌপথ বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কেপলারের শিপিং ডেটা অনুযায়ী, মঙ্গলবার এই পথে মাত্র ৮টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা গত ১০ দিনের গড় ১২টির তুলনায় অনেক কম। অথচ যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত।
এদিকে মার্কিন সেন্টকম বা সেন্ট্রাল কমান্ডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওমান উপসাগরে পানামার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ মার্কিন অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করলে মার্কিন নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই হামলায় জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ে। যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
অন্যদিকে ইয়েমেনের বাব আল-মানদেব প্রণালীতেও যুদ্ধের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি আরবের একটি কার্গো জাহাজে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় ৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪ জন মিশরীয় নাবিক এবং ২ জন উদ্ধারকর্মী রয়েছেন। বিশ্ববাণিজ্যের ১১ শতাংশ তেল ও ৮ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই রুট দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ইয়েমেনের ঘটনাপ্রবাহ নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ওমান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও তা এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি উভয়পক্ষের কাছ থেকে ইতিবাচক সংকেত পাওয়ার কথা বললেও, বাস্তবে সংঘাতের মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি উভয়পক্ষ আপস করতে ব্যর্থ হয়, তবে হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
