শেষ ওভারের নাটকীয়তায় জিম্বাবুয়ে বধ করে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

শেষ ওভারের নাটকীয়তায় শ্বাসরুদ্ধকর জয় তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ। জয়ের জন্য শেষ ওভারে টাইগারদের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫ রান, হাতে ছিল ৬ উইকেট। কিন্তু ব্র্যাড ইভান্সের করা ওভারটির প্রথম দুই বলেই মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন আউট হলে ম্যাচ জমে ওঠে। হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি করেছিলেন ইভান্স, কিন্তু আম্পায়ারের একটি ‘ডেড বল’ কলের সিদ্ধান্তে মুহূর্তেই মোড় ঘুরে যায় ম্যাচের। পরবর্তীতে মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে ভর করে ৪ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজে এই জয় বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জিম্বাবুয়ের হারারে স্পোর্টস ক্লাবে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে ডিয়ন মায়ার্স ৫৩ বলে ৭৩ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেললেও অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ দারুণ বোলিং করে ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান খরচ করেন। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ২ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের রানের গতি আটকে রাখেন। শেষ দিকে জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের যাওয়া-আসার মিছিলে রান বাড়ানোর সুযোগ ছিল সীমিত।

জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল ধীরস্থির। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে সফরকারীরা তুলতে পারে মাত্র ৩০ রান। ওপেনার সাইফ হাসান দ্রুত সাজঘরে ফিরলেও তানজিদ হাসান তামিমের অপরাজিত ৬৬ রানের ইনিংস দলের ভিত গড়ে দেয়। তানজিদ তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১৩তম অর্ধশতক তুলে নিয়ে সাকিব আল হাসানের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। এই সিরিজে উভয় ফরম্যাটেই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন এই তরুণ তুর্কি। তার সঙ্গে পারভেজ ইমন ও তাওহীদ হৃদয়ের ছোট ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস লক্ষ্য পূরণে বড় ভূমিকা রাখে।

জিম্বাবুয়ের ফিল্ডিং ব্যর্থতা ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন সিকান্দার রাজা। ফিল্ডিংয়ে সাতটি ক্যাচ হাতছাড়া করা এবং অতিরিক্ত ওয়াইড বল করার খেসারত দিতে হয়েছে স্বাগতিকদের। ম্যাচের শেষ দিকে ইভান্সের সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজের বাগবিতণ্ডায় উত্তাপ ছড়িয়েছিল, যা সিরিজের সমাপ্তিকে খানিকটা তিক্ত করে তুলেছে। এই হারের পর জিম্বাবুয়ে তাদের পরবর্তী মিশন ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেবে।

বিজ্ঞাপন

সংক্ষিপ্ত স্কোর: জিম্বাবুয়ে ২০ ওভারে ১৪৩/৭ (ডিয়ন মায়ার্স ৭৩, ব্রায়ান বেনেট ৪৭; মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ২-৩৫, রিশাদ হোসেন ১-২৮)। বাংলাদেশ ১৯.৪ ওভারে ১৪৪/৬ (তানজিদ হাসান তামিম ৬৬*, তাওহীদ হৃদয় ২৪; রিচার্ড এনগারাভা ২-২০, ব্র্যাড ইভান্স ২-২৬)। ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী।

0%
0%
0%
0%