লর্ডসে পেসারদের তাণ্ডব প্রথম দিনেই পড়ল ১৬ উইকেট

লর্ডসে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনটি ছিল বোলারদের স্বর্গরাজ্য। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর সুইং সহায়ক উইকেটে ব্যাটারদের জন্য যেন অগ্নিপরীক্ষা অপেক্ষা করছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিনের খেলা শেষে উইকেট পতনের মিছিল যেন থামছেই না, প্রথম দিনেই পতন ঘটেছে মোট ১৬টি উইকেটের। নিউজিল্যান্ডের পেসারদের তোপে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৪০ রানে। তবে জবাবে বল হাতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। দিনের শেষে নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬১ রান। কিউইরা এখনো ইংল্যান্ডের চেয়ে ৭৯ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরে কাইল জেমিসন এবং অলি রবিনসন আজ তাদের জাত চিনিয়েছেন। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম টসে জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেন। জেমিসন তার গতি আর বাউন্স দিয়ে ইংলিশদের ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা এদিন লর্ডসের পিচে চরম অস্বস্তিতে ছিলেন। হ্যারি ব্রুক কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও ৫৬ রানের বেশি এগোতে পারেননি। জেমিসন ৬২ রান খরচায় তুলে নেন ৫টি উইকেট। এছাড়া নাথান স্মিথ ৩টি এবং উইলিয়াম ও’রুরকে ২টি উইকেট শিকার করে ইংল্যান্ডকে দেড়শো রানের আগেই আটকে রাখেন।
ইংল্যান্ডের ১৪০ রানের জবাবে নিউজিল্যান্ডের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। অলি রবিনসনের নিখুঁত লাইন-লেন্থে কিউই টপ অর্ডার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। রবিনসন তার প্রথম ওভারেই বিপাকে ফেলেন ব্যাটারদের। ডেভন কনওয়ে, কেইন উইলিয়ামসন এবং রাচিন রবীন্দ্রকে সাজঘরে ফিরিয়ে রবিনসন আদায় করে নেন হ্যাটট্রিক সম্ভাবনা সম্বলিত দুর্দান্ত এক স্পেল। রবিনসনের তোপে নিউজিল্যান্ডের স্কোর তখন মাত্র ২৯ রানে ৬ উইকেট।
বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে গ্লেন ফিলিপস দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন। তিনি অপরাজিত ৩১ রান করে দিন শেষ করেছেন। সঙ্গী হিসেবে আছেন নাথান স্মিথ। রবিনসন ১০ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন ৪টি উইকেট। এছাড়া গাস অ্যাটকিনসন এবং জশ টাং একটি করে উইকেট লাভ করেন। দিনের খেলা শেষে স্কোরবোর্ডে নিউজিল্যান্ডের রান ৬১। সব মিলিয়ে প্রথম দিনটি ছিল পেস বোলারদের আধিপত্যের। লর্ডসের এই শ্বাসরুদ্ধকর টেস্টে আগামী কয়েক দিনে কি নাটক অপেক্ষা করছে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।